ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

তুরস্কের ভূমিকম্প জীবিতরা খোলা রাস্তায় আতঙ্কে বাস করছেন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৬ মার্চ, ২০২৩, ০৮:০৩ পিএম

তুরস্কের ভূমিকম্প জীবিতরা খোলা রাস্তায় আতঙ্কে বাস করছেন

 তুরস্কের ভূমিকম্প জীবিতরা খোলা রাস্তায় আতঙ্কে বাস করছেন

 জীবিতরা খোলা রাস্তায় আতঙ্কে বাস করছেন

মাজহার মিচেল: দক্ষিণ তুরস্কের সামন্দগ শহরের সংগুল ইউসেসয় গত মাসের ভায়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়া তার বাড়ির পাশের রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে সাবান দিয়ে রান্নার জিনিসপত্র পরিস্কার করছিলেন। শুধু সংগুল নয় এ রকম প্রায় ১৫ লাখ পরিবার এখন খোলা আকাশের জীবন যাপন করছেন।

তুরস্কের দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা সংস্থা আফাদ এর বরাদ দিয়ে বিবিসি বলছে, প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন ভূমিকম্প এলাকা ছেড়েছে। কেউ কেউ বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে দেশের অন্যত্র বসবাস করছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে রয়েছেন।

ভায়াবহ ভূমিকম্পে যারা বেঁচে গেছেন তারা প্রত্যেকেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি বলেও উল্লেখ করা হয়। বেশিরভাগ পরিবার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পাশেই তাঁবুতে বসবাস করছে। দূর থেকে বিস্তৃত নতুন ক্যাম্প থেকে শুরু করে ধ্বংসস্তূপের মাঝখান দিয়ে বিন্দু বিন্দু তাঁবু দেখা যায়।
তারা সেখানে ঘুমায় এবং খায়, একটি ছোট ক্যাম্পিং চুলায় রান্না করা খাবার ভাগ করে নেয়।

সেখানে কোনো উপযুক্ত টয়লেট নেই, যার ফলে প্রাকৃতিক কর্ম করতে ব্যাপক সমাস্যার সম্মুক্ষিণ হতে হচ্ছে। এমনকি গোসল করতে হচ্ছে কয়েকজন মিলে ছোট একটি ঝরনায়। খুব অল্প সংখ্যক স্টাডি কেবিন এসেছে। ধংসস্তুপ থেকে কিছু মূল্যবান আসবাবপত্র বাইরে অনতে পারলেও বিপাকে আছেন সেগুলো রক্ষাবেক্ষণে।

সোঙ্গুলের সন্তানের মত সকল বাচ্চাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। খেলনা এবং অন্যান্য খেলার সরঞ্জমাদি বাড়ির ভিতরে আটকে পড়ে গেছে।
সংগুল বলেন, "তারা বিরক্ত, তাদের ব্যস্ত রাখার কিছু নেই। তারা শুধু চারপাশে বসে থাকে। তারা তাদের ফোন নিয়ে খেলে, তারপর চার্জ ফুরিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যায়।"

যখন রাত হয়, জিনিসগুলি আরও কঠিন হয়। সামন্দগে এখন বিদ্যুৎ নেই। টঘঐঈজ লোগো সম্বলিত সাদা তাঁবুতে সৌর বিদ্যুতের আলো জলে। সবকিছু হারিয়ে তারা নিজের দেশেই গৃহহীন, উদ্বাস্তু।

"আমি এখানে বাতিগুলিকে দূর থেকে সংকেত হিসেবে রেখেছি," সানগুল ব্যাখ্যা করেন। "অন্ধকার হয়ে গেলে আমরা ভয় পাই। বিদ্যুৎ না থাকা একটি বড় সমস্যা। ভয়টি অনেক বড় এবং সারা রাত ধরে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগী, তাই ঘুমানো কঠিন।" কাঁদতে কাঁদতে সানগুল  বলেন।

আমরা স্বাধীন মানুষ, আমরা স্বাধীনতা ও স্বাধীনতায় অভ্যস্ত, প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব ঘরে বাস করতে পছন্দ করে, তার স্বামী সাভাস যোগ করেন। কিন্তু এখন আমরা তিন পরিবার, এক তাঁবুতে খাই, বাস করি এবং এক তাঁবুতে বসে থাকি।

এনবিএস/ওডে/সি