ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে নেহেরুর ভুল করার দাবি নিয়ে সংশয়


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৩, ০৫:০৩ পিএম

কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে নেহেরুর ভুল করার দাবি নিয়ে সংশয়

 কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে নেহেরুর ভুল করার দাবি নিয়ে সংশয়

ভারতের সবচেয়ে সিনিয়র জেনারেলরা ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। দৈনিক গার্ডিয়ান বহুদশক ধরে ভারতে গোপন রাখা নথি “কাশ্মীর লেটার্স” হাতে পাওয়া ও পর্যালোচনার পর বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

তৎকালীন প্রধান সেনাপতি জে: স্যার ফ্রান্সিস রবার্ট রয় বুচার ও নেহেরুর মধ্যে যে পত্র যোগাযোগ হয়েছিল তা দিল্লীর বর্তমান হিন্দু জাতীয়তাবাদী (বিজেপি) সরকারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সরকার নেহেরুর দুর্নাম রটাতে বলে থাকে যে, বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের মর্যাদা প্রশ্নে নেহেরু একটি সমঝোতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা ছিল অজ্ঞতা প্রসূত ‘ভুল’।

নরেন্দ্র মোদির সরকার ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং অঞ্চলটি ওপর দিল্লীর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে একে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তবে অনেকগুলো চিঠির ব্ক্তব্য থেকে জানা গেছে যে, নেহেরু বস্তুত সেনাবাহিনীতে তার সবচাইতে বিশ্বস্ত  জেনারেলদের পরামর্শক্রমে এটি করেছিলেন। তারা তাকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন যে, দীর্ঘকাল ধরে ভারত কাশ্মীরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে না তাই একটি রাজনৈতিক নিস্পত্তি করা প্রয়োজন। এসব চিঠিকে মোদি সরকার গোপন রাখতে চায়।

নেহেরুকে পাঠানো ১৯৪৮ সালের ২৮ নভেম্বরের এক বার্তায় বুচার কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাদের অবসাদগ্রস্থতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘সার্বিকভাবে সামরিক সিদ্ধান্ত আর কার্যকর করা সম্ভব হবে না।’ তিনি বলেন, ‘সেনা সদস্যরা এখন দু’টি দুর্বলতা প্রকাশ করছে, তাহলো জুনিয়র নেতৃত্বের প্রশিক্ষণের অভাব এবং অন্যান্য পর্যায়ে অবসাদ ও ক্লান্তি বিরাজ করছে। মদ্দা কথা হলো, সেনাবাহিনীর জন্য দরকার অবকাশ ছুটি, প্রশিক্ষণ ও প্রাণচাঞ্চল্য।’

১৯৪৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর নেহেরুকে পাঠানো অন্য এক চিঠিতে বুচার বলেন, ‘পাকিস্তান আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে স্থির থাকবে এ বিষয়টি আমার কাছে পরিস্কার নয়। আর পাকিস্তান যদি অব্যাহতভাবে গোলাবর্ষন ও অভিযান চালাতে থাকে তাহলে আমরা তা মোকাবিলা করতে পারবো না। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ বেঁেধ যাওয়ার সব সম্ভাবনাই রয়েছে।’

পরে ২৮ ডিসেম্বর অন্য আরেক চিঠিতে বুচার তার অবস্থান স্পষ্ট করেন, ‘আমার ভয় হচ্ছে, পাকিস্তানের সড়ক তৈরির প্রতিটি পদক্ষেপ বন্ধে আমরা সক্ষম হবো না। তাই আমি এ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে আমার মত প্রকাশ করছি।’ জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির আওতায় ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি যুদ্ধ বন্ধ হয়। এরপর ওই বছরের শেষ দিকে স্বায়ত্তশাসনসহ কাশ্মীর অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেন নেহেরু।

এনবিএস/ওডে/সি