ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

পাকিস্তানে প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা হ্রাসের প্রস্তাব এনে পার্লামেন্টে বিল  


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৯ মার্চ, ২০২৩, ০৫:০৩ পিএম

পাকিস্তানে প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা হ্রাসের প্রস্তাব এনে পার্লামেন্টে বিল  

পাকিস্তানে প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা হ্রাসের প্রস্তাব এনে পার্লামেন্টে বিল  

মঙ্গলবার রাতে দেশটির আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার পার্লামেন্টে সুপ্রিম কোর্ট অনুশীলন এবং পদ্ধতি বিল ২০২৩ উত্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছে দ্যা হিন্দু। এর আগে বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করতে সন্ধ্যায় মন্ত্রীসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপনের ঘন্টাখানেক বাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, যদি আইন করে প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা না কমানো হয় তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবেনা।

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির সুয়ো মোটু নোটিশ নেওয়ার বিবেচনামূলক ক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছে। 

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি মানসুর আলি শাহ ও মান্দোখাইল  পাঞ্জাব ও পাখতুনখোয়া নির্বাচন ইস্যুতে প্রধান বিচারপতির একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্লামেন্টের সাংবিধানিক পূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে দেশের স্বার্থ রক্ষার। রাজনৈতিক এই সংকটকালীন মুহুর্তে সংসদকেই এগিয়ে আসতে হবে। 

এদিকে, বুধবার (২৯ মার্চ) প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক সংকট আরও প্রকট আকার নিতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

এএনআই বলছে, বিলটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় পরিষদের (এনএ) আইন ও বিচার সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকালে চৌধুরী মাহমুদ বশির ভির্কের সভাপতিত্বে জাতীয় পরিষদের আইন ও বিচার সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি এ সংক্রান্ত বৈঠকে বসবে। পরে কমিটি তা নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানোর পর জাতীয় পরিষদে বিলটি যদি পাস হয় তবেই তা অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের নির্বাচন সংক্রান্ত গত ১ মার্চ শীর্ষ আদালতের সুয়ো মোটু রায়ের জন্য ২৭ পৃষ্ঠার একটি ভিন্নমত নোট লিখেছিলেন বিচারপতি শাহ এবং বিচারপতি মান্দোখাইল। রায়ের কপিতে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১৯১ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের সকল বিচারকের মাধ্যমে অনুমোদিত নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আদালতকে নিয়ন্ত্রিত করতে হবে।

জিও নিউজ বলছে, ওই দুই বিচারপতির ভিন্নমতের নোটটিকে ঘিরে শেহবাজ শরিফ বলেন, স্বয়ং বিচার বিভাগ থেকে যে পরিবর্তনের আওয়াজ এসছে তা দেশের জন্য আশার আলো।

অবশ্য শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ দেশটির বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ‘বেঞ্চ ফিক্সিং’-এর অভিযোগ করেছে।

পার্লামেন্ট আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, সুয়ো মোটু নোটিশের নামে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে সর্বোচ্চ আদালতের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।

তারার বলেন, দুই বিচারপতির ভিন্নমতের নোট উদ্বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এসময় তিনি দাবি করেন, স্বতঃপ্রণোদিত নোটিশের অধীনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর আগে কোনো আপিল করা যাবে না। বিলে প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত ক্ষমতা তিন জ্যেষ্ঠ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিতে স্থানান্তরিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বিলে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সম্পর্কিত একটি ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা কিনা ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের করা যেতে পারে। এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে শুনানি করতে হবে।

পরে স্পীকার পার্লামেন্ট অধিবেশন বুধবার পর্যন্ত স্থগিত করেন।

এনবিএস/ওডে/সি