ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

চীনের পুণরুদ্ধার বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করবে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৩ এপ্রিল, ২০২৩, ০৫:০৪ পিএম

চীনের পুণরুদ্ধার বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করবে

 চীনের পুণরুদ্ধার বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করবে

করোনা মহামারি বিশ্ব অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়। যার ফলে ব্যাপক বেকারত্বের সৃষ্টি হয় এবং বৈশ্বিক বানিজ্য ব্যাপক হ্রাস পায়। করোনার কারণে চীনের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়। চীন এ কারণে ২০২০ সালে কঠোর লকডাউন আরোপ করে।  ফলে দেশটিতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেশ সংকুচিত হয়ে পড়ে

অবশ্য চীন সরকার এ সংকট উত্তরনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সেই সঙ্গে অর্থনীতি যাতে লাফিয়ে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্যে আর্থিক উদ্দীপনা প্যাকেজ গ্রহণ করে।  ২০২০ সালে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২.৩ শতাংশ অর্জিত হয়। বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে চীনই গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়। ২০২১ সালে চীনের প্রবৃ্িদ্ধ দাঁড়ায় ৮.১ শতাংশ। যা ছিল অন্যান্য সব বড় অর্থনীতির মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত বছর চীনের প্রবৃদ্ধি কমে ৩ শতাংশে নেমে আসে। তবে চলতি বছর তা বেড়ে ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। করোনা বিধিনিষেধগুলো তুলে নিয়েছে চীন। দৃশ্যত চীন বৈশ্বিক অর্থ নীতির প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে। গত এক দশক ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের গড় অবদানের পরিমাণ ৩০ শতাংশেরও বেশি। আগামী বছরগুলোতে তা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের বৈদেশিক বানিজ্য দেশটির প্রবৃদ্ধির পেছনে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। চীন হলো বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক ও দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ।
২০২২ সালে চীনের মোট আমদানি ও রপ্তানির পরিমান ছিল ৭.৭ শতাংশ বেড়ে ৪২.১ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। এ নিয়ে চীন পরপর ৬ বছর যাবত বিশ্বের শীর্ষ বানিজ্যিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

সম্প্রতি বছরগুলোতে চীন তার অবাধ বানিজ্য অঞ্চল গঠন নীতি সম্প্রসারিত করেছে যা এখন ১৯ এ দাঁড়িয়েছে। অবাধ বানিজ্য শরিক দেশগুলোর সাথে বানিজ্যের পরিমান ছিল ৩৫ শতাংশ। এদিকে চীন কয়েকটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশিদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

২০২২ সালে চীন বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ১৫০টি দেশ ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে দু’শতাধিক সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর করেছে। চীনের অর্থনীতির অব্যাহত অগ্রগতি ও পুণরুদ্ধারের ফলে উম্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশটির অবদান আরো বাড়বে।

চীনের অর্থনীতির পুণরুদ্ধারে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থাও উপকৃত হবে। অন্যদিকে চীনের অর্থনীতির অবনতিও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সুদূর প্রসারি প্রভাব পড়তে পারে।
বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা প্রতিযোগিতা জোরদার করতে চীন  ৫জি, হাই-এন্ড চিপস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ অত্যাধুনিক নির্মান প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। চীনের আ্র এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ২০২২ সালে ৩ট্রিলিয়ান ইউয়ানের বেশি বিনিয়োগ করেছে। যা দেশটির জিডিপির ২.৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া চীন আভ্যন্তরীন উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরশীলতা কমানোর চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক শাসনের প্রেক্ষাপটে চীন সবসময়ই সহযোগিতা ও কল্যানকে ভাগাভাগির ধারণাকে অনুসরণ করে আসছে।

চীন সব দেশের মানুষ যাতে অধিকতর উপকৃত হতে পারে সে জন্যে উন্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং মানবজাতির জন্য একটি অংশিদারিত্বের ভবিষ্যত সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ গ্রহণের পর চীন এর সংলগ্ন দেশগুলোতে ১৮ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করে। এ প্রকল্প কর রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে।

এনবিএস/ওডে/সি