এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৩, ০৭:০৪ পিএম
লোভনীয় মহাশুণ্য ব্যবসায় ভারত
ভারতে মহাশুণ্য গবেষণা সংস্থা (আইএসআরও) সফলভাবে এলভিএম-৩ রকেট নিক্ষেপ করেছে। এটি মহাশুণ্যে ৩৬টি উপগ্রহ বহন করে নিয়ে যায়। শ্রী হরিকোটার সতিশ দেওয়ান মহাশুণ্য কেন্দ্র থেকে গত ২৬ মার্চ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এএনআই
ভারত ক্রমবর্ধমানভাবে লোভনীয় মহাশূণ্য ব্যবসায়ে নিজের ক্ষেত্রকে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশটি স্পেস এক্সএর নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন নিউস্পেস ইন্ডিয়া লি: গত মাসে ওয়ানওয়েব লি:এর জন্য তিন ডজন যোগাযোগ উপগ্রহ পাঠায়। দেশটির পূর্বাঞ্চলের উপকুল থেকে পাঠানো হয় উপগ্রহগুলো। বিষয়টি যুক্তরাজ্যের উপগ্রহ কোম্পনির মহাশুণ্যে বৈশ্বিক ব্রোডব্যান্ড ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে কেবল সুরক্ষা দেয়নি উপরন্তু এ খাতে ভারতে উচ্চাভিলাষের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
মহাশুণ্য থেকে উচ্চ গতির ইন্টারনেটের বিপুল চাহিদা কক্ষপথে উপগ্রহ প্রেরণকে একটি লাভজনক ও লোভনীয় ব্যবসায়ে পরিণত করেছে। ২০২৫ সালে তথাকথিত মহাশুণ্য অর্থনীতির পরিমান বেড়ে ৬০ হাজার কোটি ডলার দাঁড়াবে। যা ২০২০ সালে ছিল ৪৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
নর্দার্ন স্কাই রিসার্চ এর প্রধান বিশ্লেষক ডালাস কাসাবেস্কি বলেছেন, যদি স্পেসএক্স এ কাজের কোন অবকাশ না থাকে বা ব্যস্ত থাকে কিংবা বেশ ব্যয়বহুল হয়, সেক্ষেত্রে অন্যদিকে দৃষ্টি প্রদান প্রয়োজন হয়ে পড়বে। চীনের দিকে যাওয়ার সুযোগ কম। তবে উত্তর আমেরিকায় চীন যেতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র সেখানকার চাহিদার বেশীরভাগ পূরণ করে থাকে। সেক্ষেত্রে ভারত রাজনৈতিকভাবে কিছুটা ভাল বিবেচিত হতে পারে।
উপগ্রহ পাঠানোর কাজ করে থাকে মূলত এলেন মাস্ক এর স্পেসএক্স, রাশিয়া ও চীন। রাষ্ট্র পরিচালিত মহাশুণ্য কর্মসূচীর আওতায় তারা দীর্ঘদিন ধরে এটি করে যাচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের দ্বন্দ্ব অনেক সম্ভাব্য গ্রাহকের জন্য বর্তমানে উপগ্রহের বাজার সীমিত হয়ে পড়েছে। গত বছর রাশিয়া উৎক্ষেপন কার্যক্রম বাতিল করার পর ওয়ানওয়েব ভারতের দিকে নজর দেয়।
ফ্রান্সের আরিয়ানস্পেস সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তাদের হাতে ব্যবহার করার মতো প্রস্তত রকেট নেই। ব্রিটিশ শতকোটি পতি রিচার্ড ব্রানসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ভারজিন অরবিট হোল্ডিংস কর্পোরেশনও উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কাজ স্থগিত রেখেছে। গত জানুয়ারীতে তার রকেট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেক ইন ইন্ডিয়া আন্দোলনের মূলে রয়েছে মহাশুণ্য খাত। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অথনীতি ভারত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনীর অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য হতে চায়।
নিউস্পেসএর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রাধাকৃষ্ণান বলেন, চাহিদা বিপুলি। কিন্তু ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপকের বেশ অভাব রয়েছে। ইন্ডিয়া স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের বানিজ্যিক শাখা হিসেবে ২০১৯ সালে নিউস্পেস গঠন করা হয়।
গত বছর অক্টোবরে ওয়ানওয়েবের ৩৬টি উপগ্রহ সফল উৎক্ষেপনের পর মার্চে ২৬টি উপগ্রহ মহাশুণ্যে পাঠায় নিউ স্পেস। সংস্থাটি ভারতের নিজস্ব রকেট এলভিএম-৩ উৎপাদন জোরদার করেছে।
ওয়ানওয়েবের প্রধান নির্বাহী নেইল মাস্টারসন বরেন, নিউস্পেসের মূলধারার বানিজ্যিক উপগ্রহ প্রেরণকারী হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। গত অর্থ বছরে সংস্থাটির রাজস্ব ছির ১৭০০ কোটি রুপি এবং মুনাফা অর্জিত ৩০০ কোটি রুপি। নিউস্পেস এ সময় ৫২ আন্তর্জাতিক গ্রাহকের উপগ্রহ উৎক্ষেপন সুবিধা প্রদান করে।
২০২০ সালে বিশ্বের কক্ষপথে ভ্রমণকারী উপগ্রহের ১৩.৬ শতাংশ পাঠায় চীন। আর ভারতের ছিল ২.৩ শতাংশ। গত বছর চীন ৬৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপন করে। অধিকাংশ চীনা কোম্পানি নিজস্ব রকেট তৈরির চেষ্টা করছে। গ্যালাক্সিস্পেস ৬টি যোগাযোগ উপগ্রহ নিম্নকক্ষপথে পাঠায়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যালাক্টিক এনার্জি গত জানুয়ারিতে আরো ৬টি উপগ্রহ পাঠায়। উভয় কোম্পানির সদরদপ্তর বেইজংয়ে অবস্থিত।
এনবিএস/ওডে/সি