ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৭ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:০৪ পিএম

গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

 গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের জঙ্গী বিমানগুলো। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসব হামলার পর প্রচন্ড বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয় লেবানন ও গাজা উপত্যকা। দক্ষিণ লেবানন থেকে ৩৪টি রকেট ইসরায়েলে নিক্ষেপ করা হয় বৃহস্পতিবার। যা ১৭ বছরের মধ্যে লেবানন থেকে ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপের প্রথম ঘটনা। এ রকেট নিক্ষেপের জন্য গাজার নিয়ন্ত্রক হামাসকে দায়ী করে তেল আবিব। তবে হামাস বলেছে, লেবানন থেকে রকেট নিক্ষেপের পেছনে কারা ছিল তা তারা জানে না।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ রকেট নিক্ষেপের প্রতিশোধ নিতে ‘দ্যা স্ট্রং হ্যান্ড’ নামে এ হামলা অভিযান শুরু করে। এতে কোনো হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। পরপর কয়েক রাতে ইসরায়েলি পুলিশ জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের মারধর করা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করার মধ্যে এ রকেট নিক্ষেপ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটল। রকেট হামলার সময় হামাস প্রধান ইসমাঈল হানিয়া লেবাননে ছিলেন। তিনি ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে ফিলিস্তিনীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না।

আজ এক বিবৃতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী(আইডিএফ) বলেছে, ‘তারা লেবাননে হামাসের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।’ আইডিএফ আরো বলেছে, লেবাননের ভূখন্ড থেকে নিক্ষিপ্ত প্রতিটি গোলার জন্য দেশটিকে দায়ী থাকতে হবে।

ইসরায়েলের বাহিনী গাজার ৫টি স্থানে বিমান হামলা এবং ১০ মিনিটে ২০টি ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ২০২২ সালে ইসলামি জিহাদ গ্রুপের ওপর হামলার পর বৃহস্পতিবার রাতের হামলা হলো গাজায় সবচেয়ে বড় ইসরায়েলি হামলা। হামাসের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজায় হামাসের দুটি সুড়ঙ্গ ও দুটি অস্ত্র কারখানায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের কয়েক মিনিট পর গাজা থেকে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ও রকেট নিক্ষেপ করা হয়। ফলে গাজা কাছাকাছি বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি শহরে সাইরেন বেজে ওঠে।

গণমাধ্যম জানায় যে, দেশটির সরকার গাজা ও লেবাননে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে দক্ষিণ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, আল-আকসায় হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনিদের নেয়া ‘সকল পদক্ষেপকে’ সমর্থন করবে তারা।

লেবাননে টায়ার অঞ্চলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শহরের ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তু শিবিরের কাছে দু’টি গোলা নিক্ষেপ করা হয়। লেবাননে জাতিসংঘ বাহিনী বলেছে, লেবানন ও ইসরায়েল শুক্রবার জানিয়েছে, তারা যুদ্ধে জড়াতে চায় না।

তুরস্ক ইসরাইলের সহিংসতার নীতি তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। আংকারা বলেছে, ইসরায়েল কয়েকদিন ধরে এ সহিংসতার পথ অনুসরণ করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহীম কালিন বলেন, ‘ গাজায় ইসরায়েলের বেআইনি ও অনৈতিক হামলার আমরা নিন্দা করছি। আমরা সেখানকার আমাদের ভাইবোনদের প্রতি অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যাবো। সেখানে যে জুলুম-নিপীড়ন চলছে অবশ্যই তার অবসান ঘটবে।’

এনবিএস/ওডে/সি