এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৩, ০৪:০৪ পিএম
১৩ হুতি বন্দীকে মুক্তি দিল সৌদি আরব
যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে সম্মত ব্যাপকভিত্তিক বন্দী বিনিময়ের আগে সৌদি আর ১৩ জন হুতি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গ্রুপ হুতির একজন মুখপাত্র একথা জানান।
আট বছরব্যাপী ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধের আন্তর্জাতির চেষ্টার অংশ হিসেবে ওমানের কর্মকর্তারা শনিবার দেশটির রাজধানী সানায় পৌঁছান। বন্দী বিনিময় আলোচনার দায়িত্বে নিযুক্ত হুতি কর্মকর্তা টুইটারে বলেন, ১৩ হুতি বন্দী সানায় পৌঁছেছেন। এর আগে হুতিরা একজন সৌদি বন্দীকে মুক্তি দেয়। তার বিনিময়ে সৌদি আরব তাদেরকে মুক্তি দেয়। তবে তাৎক্ষনিকভাবে সৌদি সরকার এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি।
আব্দুল কাদের আল-মুর্তজা বলেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে সম্মত বন্দী বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে বন্দীদেরকে মু্িক্ত দেয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। গত মাসে সুইজারল্যান্ডে জাতিসংঘের মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তির প্রসঙ্গে একথা বলেন। ওই চুক্তিকে ৮৮৭ বন্দীকে মুক্তি দেয়ার কথা রয়েছে।
সৌদি হামলার পর থেকে ইয়েমেনে ৮ বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়ার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। তারা দেশটির উত্তরের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নিলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির সরকারকে ক্ষমতা হারিয়ে প্রথমে দক্ষিনে পালিয়ে যায়। পরে সৌদি আরবে আশ্রয় নেয়।
হুতিদের এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এ যুদ্ধকে ইরান ও সৌদি আরবের ছায়াযুদ্ধ বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। হুতিদের সঙ্গে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে সানায় ওমান ও সৌদি দূতদের মধ্যে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন বলবৎ রয়েছে।
হুতিদের প্রধান আলোচক মোহাম্মাদ আব্দুল সালামও মাস্কাট থেকে ওমানের প্রতিনিধি দলের সাথে সানা এসেছেন বলে এ টুইটে জানিয়েছেন। আজ রোববার তাদের মধ্যে আলোচনা হবে।
অনেক বছর ধরে ওমান সৌদি ও হুতিদের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করে আসছে। গত মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুণ: প্রতিষ্ঠায় সম্মত হওয়ার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হয়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি