এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৩, ০৯:০৪ পিএম
বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ পরিষেবা আদানির
৯ এপ্রিল আদানি পাওয়ারের তরফে জানানো হয়েছিল দ্রুত তারা ঝাড়খণ্ডের গোদ্দা এলাকার ইলেকট্রিক প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া শুরু করবে।
শুরু হয়ে গিয়েছে সেই প্রক্রিয়া। দ্রুত এই প্ল্যান্ট থেকে প্রথম ইউনিটে ৭৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতে চলেছে বাংলাদেশকে। জানা গিয়েছে, পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে গোদ্দায় আদানিদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দক্ষিন এশিয়ায় অবকাঠামো ও সংযোগের একটি বড় ঘটনা ঘটে। বস্তুত এই সময় থেকে ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ বিদ্যৎ আমদানি শুরু করতে পরীক্ষা শুরু হয়। ভারতের একটি বিশাল ১৬০০ মেগাওয়াট কয়লা-চালিত প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুতের সঞ্চালনের পরীক্ষা শুরু করা হয়। যা উভয় দেশে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই প্ল্যান্ট থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ আগামী মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চুক্তির শর্তাবলী এবং বাংলাদেশকে এই বিদ্যুৎ-এর জন্য কত অর্থ দিতে হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং গোপনীয়তা দেশে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ আমদানির এই চুক্তিটি বাংলাদেশ সরকার গৌতম আদানির সংস্থা আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে করে। বস্তুত বাংলাদেশকে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ রফতানি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
গোড্ডা প্ল্যান্টটি 1.7 বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে তৈরি করা হয়। ভারতের বৃহত্তম বেসরকারী বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি পাওয়ার লিমিটেড এই পাওয়ার প্ল্যন্টটি পরিচালনা করছে। তবে এই বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে ঢাকা সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছেন বিভিন্ন দিক থেকে চুক্তিটি ভারতীয় কোটিপতির পক্ষ বেশি নিয়েছে।
চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ সরকার নিম্নমানের কয়লার জন্য তার অন্য কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুতের জন্য যা খরচ হয় তার তুলনায় অনেক বেশি দাম দেবে। সেই কয়লা অস্ট্রেলিয়ার আদানি মালিকানাধীন খনি থেকে ভারতের একটি আদানি মালিকানাধীন বন্দরে সরবরাহ করা হবে যেখান থেকে এটি গোড্ডা প্ল্যান্টে পাঠানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন যে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের গোড্ডা প্ল্যান্টকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) হিসাবে ঘোষণা করার সময় যে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল তার সুবিধাও বাংলাদেশ পাচ্ছে না। যদিও আদানি এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুতের চুক্তিটি প্রায় ছয় বছর পুরানো, এটি কখনই রাজনৈতিকভাবে কোন সমস্যার সৃষ্টি করনি।
এনবিএস/ওডে/সি