ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ভারতের জেলে গ্যাং স্টার তিল্লু তাজপুরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০২ মে, ২০২৩, ০৪:০৫ পিএম

ভারতের জেলে গ্যাং স্টার তিল্লু তাজপুরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা

 ভারতের জেলে গ্যাং স্টার তিল্লু তাজপুরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা

দিল্লির তিহার জেলে কারাবন্দি ছিলেন এই গ্যাং স্টার। পরে দিন দয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে তাকে আহত অবস্থায় নেওয়া হলে মঙ্গলবার (২ মে)  সকাল ৭ টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। এর আগে সকালে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং সদস্যদের হামলার শিকার হন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত এই গ্যাংস্টার সুনীল মান নামেও পরিচিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ-নিরাপত্তা সমৃদ্ধ কারাগারটির ভেতরে তিল্লুর প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংস্টার যোগেশ টুন্ডা ও তার সহযোগীরা লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করলে তিনি মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় রোহিত নামে আরেক বন্দি আহত হয়েছেন। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

জানা যায়, গ্যাংস্টার যোগেশ টুন্ডা, দীপক তিতার, রিয়াজ খান ও রাজেশ কারাগারটির দ্বিতীয় ৮ নং ওয়ার্ডের লোহার গ্রিল ভেঙে ফেলে প্রবেশ করে । কিন্ত সেখানে না পেয়ে কারাগারের নিচতলার ওয়ার্ডে অবস্থানরত  তিল্লুর উপরে আক্রমণ চালায়।

এসময় প্রতিপক্ষ গোগি গ্যাংয়ের চার সদস্য বিছানার চাদর ব্যবহার করে দোতলায় তাকে না পেয়ে নিচতলায় নেমে আসে। এর আগে ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রোহিণী আদালতে এক বন্দুক হামলায়ে গ্যাংস্টার গোগি গ্যাংয়ের জিতেন্দ্র মানকে হত্যা করেছিলেন তিল্লু। সেসময় আইনজীবীদের পোশাক পরে আদালতের ভেতরে প্রবেশ করে গুলি করে হত্যাকান্ড চালিয়েছিলেন তিনি। উভয় হামলাকারীই তখন পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়। পরে এই হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপ্ত্র দাখিল করে পুলিশ।

২০১০ সাল হতেই তিল্লু ও গোগি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছিল। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ২০টিরও বেশ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত দুগ্রুপের সদস্যরা। জানা যায়, জিতেন্দ্র গোগিকে হত্যা করতে তিল্লু তাজপুরিয়া ফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে তিল্লু তাজপুরিয়া হত্যার তদন্ত শুরুর এক মাসের মধ্যে তিহার জেলে সহিংসতামুলক ও দলগত বিবাদের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এর আগে গত মাসে (এপ্রিলে) গ্যাংস্টার লরেন্স বিশনোইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রিন্স তেওয়াতিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং সদস্যদের হাতে তিহার জেলে নিহত হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, তিল্লু ও গোগি একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। মূলত স্বামী শ্রদ্ধানন্দ কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধের জেরে ত্যাদের মধ্যে দ্বন্দের সূত্রপাত ঘটে।

এর আগে ২০১৬ সালে ১১ টি হত্যাকান্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তিল্লুকে। এসবের মধ্যে দিল্লী ও হারিয়ানা রাজ্যের হত্যা ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এর আগেও গোগি তার অন্যতম সহযোগী ফাইজাকে নিয়ে তিল্লুকে হত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ছিল।

এনবিএস/ওডে/সি