এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০২ মে, ২০২৩, ০৮:০৫ পিএম
এমএসএনবিসির সঞ্চালক মেহেদি হাসানের সমালোচনা
টুইটার কমিউনিটি শুক্রবার মেহেদি হাসানের বর্ণবাদ সংক্রান্ত টুইট বার্তাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেন। এইচবিও’র উপস্থাপক বিল মাহেরের একটি মন্তব্যকে ঘিরে হাসান বার্তাটি লিখেন।
এর আগে মাহের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অথচ ডেমোক্রাটিক পার্টির এই নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। এমনকি মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা হচ্ছে না।
জবাবে টুইটে মেহেদি হাসান লখেন, শ্বেতাঙ্গরা শ্বেতাঙ্গদের হত্যা করছে অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গরা মারছে তাদের স্বজাতিকে। কিন্ত আমরা কাউকে বলতে শুনছিনা শ্বেতাঙ্গরা এ সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত। শুধুমাত্র কৃষাঙ্গদের অপরাধ নিয়েই কথা চালাচালি হচ্ছে। এটা মেহেরে মত একজন বিদগ্ধ ব্যাক্তিত্বের কাছে আশা করিনি। বরং তার এমন মন্তব্য প্রাচীনকাল হতে চলমান বর্ণ বৈষ্যমকেই উস্কে দেয়।
আর টুইটটির ঠিক কিছু পরেই টুইটার কমিউনিটি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এফবিআই) পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এক পাল্টা জবাবও দেয়। তারা বলেন, ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান মতে যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে অপরাধের হার অনেক বেশি।
সংস্থাটির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ২ হাজার ৫ শত ৯৪ টি শ্বেতাঙ্গ হত্যাকান্ডের বিপরীতে ২ হাজার ৫ শত ৭৪ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে। অথচ সেসময় দেশটিতে মোট জনসংখ্যার ৬০ দশমিক ১ শতাংশ নাগরিক ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গের হার ছিল মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ। এতে করে বোঝা যায়, মাথা পিছু হত্যা ঘটনার হিসেবে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যেই এই অপরাধ প্রবণতা বেশি বলে দাবি করে কমিউনিটি।
লেখক ও ধারাভাষ্যকার রায়ান জেমস গিরদুস্কি হাসানকে নিয়ে আরেক সমালোচনায় বলেন, আপনি বরং খামারে কাজ করলে বেশি ভাল করবেন। কিভাবে চেরি ফল বাগান থেকে তুলতে হয় এটি আপনি ভাল জানেন।
এদিকে মেহেদি হাসানকে পেশাগতভাবেই মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে ভিভা ফ্রেই’র পডকাস্ট সঞ্চালক ডেভিড ফ্রেইহেইট বলেছেন, ‘রেট‘ ও ‘ ফ্রিকোয়েন্সি’ দুটো ভিন্ন শব্দ।
এর জবাবে হাসান ইউএসএ টুডের একটি নিবন্ধনে লিখেন, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই হানাহানির হার প্রায় সমান। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যেই এই হারের উঠানামা।
পরে আরেক পালটা জবাবে কমিউনিটি জানায়, এফ বি আই ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ২০১৯ সালে দেশটিতে ৮৯ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গরা তাদের মধ্যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে যেখানে কিনা শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই হার ৭৯ শতাংশ।
এনবিএস/ওডে/সি