ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের বিকল্প মুদ্রার নীরব পরিকল্পনা চীনের


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১০ মে, ২০২৩, ০৪:০৫ পিএম

বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের বিকল্প মুদ্রার নীরব পরিকল্পনা চীনের

 বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের বিকল্প মুদ্রার নীরব পরিকল্পনা চীনের

বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবস্থান ক্রমেই জোরালোর দিকে যাচ্ছে। যদিওবা যুক্তরাষ্ট্র চীনের এমন উত্থানের ফলে শি জিন পিংয়ের দিকে ঝোঁকার সম্ভাবনা অবশ্য কম। আর এদিকে চীন কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) অবশ্য বিআরআইসি ভূক্ত দেশগুলোতে ভারতীয় মুদ্রা রুপি প্রচলনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

এদের মধ্যে রয়েছে- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও সাউথ আফ্রিকা। আর তা সত্যই যদি বাস্তবায়নে দেশটি সফল হয় তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ আর চীনের সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য হয়ে উঠবে আরো শক্তিশালী।    

কয়েক বছর ধরেই সিসিপি প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়ানোর চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি সফল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘ উই চাই ‘ নামের একটি কর্মপরিকল্পনা চালিয়ে আসছে। এটিকে দেশটির নীতি নির্ধারকেরা নীরব যুদ্ধ হিসেবে দেখে আসছে।  

গত মার্চে শক্তিশালী দেশটি ব্রাজিল ও বিআরআইসি অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ডলারে পরিবর্তে আলাদা মুদ্রায় লেনদেনের পরিকল্পনা নিয়ে একটি বৈঠকও সারেন। আর এটিকে মূলত অর্থনীতিবিদরা যুক্তরাষ্ট্রমুখী অর্থনীতি হতে বিশ্বের মুখ অন্যদিকে সরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

এরইমধ্যে ফ্রান্সের সঙ্গে দেশটি মালেয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রহিমের মধ্যস্থতায় তেল বিষয়ক একটি বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এসময় কিন্ত আনোয়ার ইব্রহিম ডলারের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর ব্যাপারে তাগিদও দিয়েছিলেন।  

এদিকে বাইডেন প্রশাসন বলছে, আরো অধিক অর্থ ব্যয় আর সম্ভব নয়। যেখানে আমাদের নিত্যপণ্যের ৭৫ ভাগ আমদানি করে থাকি সেখানে অধিকহারে অর্থনীতিকে আরো বেগবান করতে এ মুহুর্তে আর অর্থের যোগান দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বাইডেন প্রশাসন।

অন্যদিকে বেশি হারে সরবরাহের জন্য নতুন করে ডলার ছাপা হলেও ক্রমশই চাহিদা গিয়ে ঠেকছে বেশ তলানিতে। আর এমন পরিস্থিতি দেশটিকে ধ্বংসের এক ধাপ এগিয়ে নিতে যাওয়াতে চীন কমিউনিজিম সাম্রাজ্যেবাদের নীরব নীতিটিই যেন বেশি কার্যকরি।

একদিকে ডলারকে অসহায় পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া অন্যদিকে ইউয়ান ও অন্যান্য মুদ্রাগুলোর চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর মধ্যদিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতকে নতুন এক মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর তাই ভারতের রুপিকেই বিআরআইসিতে অন্তর্ভূক্তি করণের প্রক্রিয়াটিকে বিশ্লেষকরা চীনের এক মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে দেখছেন।

এটি কার্যকর হলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমার পাশাপাশি ক্রয় ক্ষমতাতেও আসবে নাটকীয় পরিবর্তন। তবে এর ফলে বিশাল জনসংখ্যার দেশটিতে ভাল ও মন্দ উভয় দিকই রয়েছে।    

যেখানে বিশ্ব এতদিন ডলার নির্ভরশীল বাণিজ্য প্রথায় ছিল সেখানে চীনের এমন সিদ্ধান্তের বিনিময়ে ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট কেমন হতে চলেছে সে নিয়েও রয়েছে শংকা।

বাস্তবে ডলারের মূল্য কমিয়ে আনা হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানি খরচ যেমন বাড়বে অনুরূপ ভারতকেও তাদের নিজস্ব প্রস্ততকৃত পণ্যের জন্য গুনতে হবে চড়া মূল্য।  এতে কিন্ত চীনের জয়লাভ হবে।

ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ অত্যন্ত দরিদ্র। যাদের দিন প্রতি আয় মাত্র ১ দশমিক ২৫ ডলার। এমন অবস্থায় যদি রুপির দাম বেড়ে যায় দেশটির ১ দশমিক ৪ বিলিল্যন বা এক তৃতীয়াংশ জনগণ আরো দারিদ্রসীমার নীচে চলে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যেখানে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভারত সরকার চীন হতে অল্পদামে পণ্য আমদানিতে অনেকটাই জোর খাটাবে ব্যবসায়ীদের উপরে, এতে  স্বদেশীয় অর্থনীতি লাতিন আমেরিকার মত হয়ে উঠবে কোণঠাসা।  এমনকি যদি ভারতীয়দেরকে কম দামে বিদেশি পণ্য কিনতে হয় তবে চাকরির বাজারে মন্দাসহ দাঙ্গা নানা জটিলতায় পড়বে দেশটি।

আমি বিশ্বাস করি ভারত চীনের এই ফাঁদে পা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে ইতিবাচকভাবে কাজ করে দুই দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় প্রকৃত ভূমিকা রাখবে। আমাদের উচিত নিজেদের সর্বোচ্চ ভাল খেলাটা উপহার দেওয়া যেন বেইজিংয়ের জন্য এটি একটি প্রকৃত শিক্ষা হতে পারে।

এনবিএস/ওডে/সি