এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৩, ০৩:০৫ পিএম
তুরস্কে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু
তুরস্কে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান তার দু’দশকের শাসনের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জর মুখোমুখি হয়েছেন।
তুরস্কের এবারের নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটিতে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। সাড়ে আট কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে নতুন প্রজন্মের ভোটারসহ অনেকে পরিবর্তনের প্রত্যাশ করছেন মনে করছেন অনেকে।
প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ৫ বছর মেয়াদ। এবার তুরস্কের ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লাখ। এবার এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন কামাল কিলিচদারোগলু। গত দু’দশকের বেশি সময় ধরে কঠোর হস্তে তুরস্কের শাসন পরিচালনাকারী এরদোগান তুরস্কের সব নির্বাচনে চমক দেখিয়েছেন। তবে অতি সহজে পরাজয় মেনে নেয়ার মতো মানুষ তিনি নন।
দেশটিতে নির্বাচনের আগে করা জনমত জরিপে এরদোয়ানের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন কিলিচদারোগলু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এরদোগানই চমক দেখাতে পারেন বলেও অনেকে মনে করেন। কারণ আনাতোলিয়া অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে তার ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। এ সমর্থনের কারণে চিত্র বদলে যেতে পারে।
গত তিন দশকে এরদোগানের উত্থান দেখেছেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে ক্ষমতায় থাকতে এরদোগান সর্বশক্তি দিয়ে লড়বেন। জয় ছিনিয়ে আনতে বা পরাজয় ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহার থেকে শুরু করে যেকোনো সুবিধা নিতে দ্বিধা করবেন না তিনি।
কলাম লেখক কাদরি গারসেল বলেন, ‘ফলাফল যদি এরদোগানের পক্ষে না যায় বা ব্যবধান খুব কম হয়, তবে তিনি তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করবেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী যদি নিরংকুশ জয় পান, সে ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ কিছু করতে পারবেন না। এরদোগান তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন।’
প্রেসিডেন্ট অফিসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে এরদোগান নির্বাচন বোর্ডের কাছে আবেদন জানাবেন। একইভাবে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কুমহুরিয়েত হাল্ক পার্টির (সিএইচপি) পক্ষ থেকেও আবেদন জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি নির্বাচনে হেরে গেলে ক্ষমতা ছাড়বেন না, এ কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা মনে করা হয় এরদোগানকে। তিনি গত কয়েক দশকে ক্ষমতা একদিকে যেমন পোক্ত করেছেন, তেমনি ভিন্নমত কঠোরভাবে দমন করেছেন। সমালোচক, বিরোধী গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করেছেন তিনি। বিচার বিভাগ এবং অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। গত দুই বছরে তিনজন গভর্নরকে বরখাস্ত করেছেন। ২০১৬ সালে এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টার পর তিনি শক্তিশালী জেনারেলদের কোণঠাসা করেছেন। অভ’্যত্থানে জড়িতসেনা কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় এনেছেন।
এরদোগান ও তার দল একে পার্টি (একেপি) তুরস্ককে আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষ দেশের অবস্থান থেকে ইসলামপন্থী দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। বিরোধীরা তাকে সুলতান হিসেবে মন্তব্য করেন।
এনবিএস/ওডে/সি