ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

কার্গিলে দেশকে বাঁচিয়েছি, কিন্তু মণিপুরে স্ত্রীকে বাঁচাতে পারলাম না: নিগৃহীতার স্বামী


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ জুলাই, ২০২৩, ০২:০৭ পিএম

কার্গিলে দেশকে বাঁচিয়েছি, কিন্তু মণিপুরে স্ত্রীকে বাঁচাতে পারলাম না: নিগৃহীতার স্বামী

কার্গিলে দেশকে বাঁচিয়েছি, কিন্তু মণিপুরে স্ত্রীকে বাঁচাতে পারলাম না: নিগৃহীতার স্বামী

তিনি কার্গিলের যুদ্ধে লড়েছেন। শ্রীলঙ্কায় কাজ করেছেন ভারতীয় শান্তিসেনা হিসেবে। কিন্তু আজ নিজের গ্রামের মাটিকে যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে তার। বলছেন, ‘দেশের সম্ভ্রম রক্ষায় আমি লড়াই করেছি। কিন্তু নিজের দেশে নিজের স্ত্রীর সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারিনি।’ কথা বলার সময় গলা ধরে আসে এ ভারতীয় প্রাক্তন সেনার।

দাঙ্গা-সংঘর্ষে বিধ্বস্ত মণিপুরে গত ৪ মে যে দুই নারীকে বিবস্ত্র করে হাঁটানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে এক জন তার স্ত্রী। মণিপুরের প্রাক্তন সেনা বার বার বলছেন, ‘দেশকে বাঁচালাম। কিন্তু নিজের বাড়ি, স্ত্রী, গ্রামের মানুষগুলোর কাউকেই তো বাঁচাতে পারলাম না!’ গ্রামপ্রধান  তিনি, ১৮ মে এই ঘটনার প্রথম এফআইআর তিনি করেছিলেন।

চার বছরের এক ছেলে আছে এই দম্পতির। দুঃস্বপ্নের শেষে তিন জনের দেখাও হয়েছে আবার। কিন্তু এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি বছর চুয়াল্লিশের নির্যাতিতা এ গৃহবধু। ঘটনার দিন, সেই ৪ মে যিনি দুষ্কৃতীদের কাকুতি-মিনতি করে বলেছিলেন, ছেলের মুখ চেয়ে তাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। লোকগুলো বলেছিল, ‘বাঁচতে হলে কাপড় খোল।’

ওই নির্যাতিতা জানিয়েছেন, গত ৪ মে মেইতেই জনতা কাঙ্গপোকপি জেলায় তাদের বি ফাইনম গ্রামের দিকে আসছে শুনেই কয়েক জন কুকি মহিলার সঙ্গে ছেলেকে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্বামী এবং নিজে যখন পালানোর চেষ্টা করছেন, তখনই দুষ্কৃতীরা আসে। দু’জনকে দু’দিকে নিয়ে চলে যায়। নির্যাতিতার কথায়, ‘‘আমাকে বলা হল, এক মেইতেই নারীকে নাকি আমাদের গোষ্ঠীর লোকেরা ধর্ষণ করেছে (একটি ভুয়ো ভিডিয়ো থেকে সেই গুজব ছড়ায়)। তাই ওরাও আমাদের সঙ্গে একই কাজ করবে। আমার সঙ্গে আর একটি মেয়ে ছিল। তার বাবাকে মেরে ফেলা হল চোখের সামনেই।’

সেই ‘অন্য মেয়েটিকেও’ বিবস্ত্র করে হাঁটানো হয় সে দিন। মেয়েটির বাবা শুধু নন, কিশোর ভাইকেও খুন করে জনতা। সেই ছেলেমেয়ের মা বলছেন, ‘বড় ছেলের চাকরি নেই। ছোট ছেলেটাই ছিল আশা। কষ্ট করে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম। ওকে মারল, ওর বাবাকেও। আমাদের সব শেষ। ঘর-জমি পুড়িয়ে দিয়েছে। কী করব আর গ্রামে ফিরে?’

প্রাক্তন সেনার স্ত্রী জানান, প্রায় হাজার লোকের ভিড় সে দিন যৌন নিগ্রহ করেছিল তাদের। শেষে বাঁচিয়েছিলেন কয়েক জন মেইতেই যুবকই। পোশাকের ব্যবস্থা হওয়ার পরে অন্য মেয়েটিকে তার বাবা আর ভাইয়ের মরদেহর কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু মরদেহ উদ্ধার করা আর হয়নি। কার্গিলের যোদ্ধা বলছেন, তার প্রাণ বেঁচেছিল বরাতজোরে। হামলাকারীদেরই মধ্যে ছিল তার কয়েক জন বন্ধুর ছেলে। চিনতে পেরে তারাই তাকে পালিয়ে যেতে দিয়েছিল। 

পরে জঙ্গলে তিনি খুঁজে পান স্ত্রী-সন্তানকে। কিন্তু এর পর কী হবে? সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পরে নিজের ব্যবসা শুরু করেছিলেন, একটা মিনি ট্রাক কিনেছিলেন। সেই পোড়া ট্রাক এখন দাঁড়িয়ে তার বাড়ির পাশে। প্রধানমন্ত্রীকে তার আর্জি, ‘সুবিচার দিন মেয়েদের।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি