ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

মণিপুরে আরেক কুকি নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে ৪ মেইতেই দুর্বৃত্ত


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৪ জুলাই, ২০২৩, ০৫:০৭ পিএম

মণিপুরে আরেক কুকি নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে ৪ মেইতেই দুর্বৃত্ত

মণিপুরে আরেক কুকি নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে ৪ মেইতেই দুর্বৃত্ত

১৫ মে উক্ত তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ২১ জুলাই তিনি থানায় অভিযোগ করলেও তার কোনো প্রতিকার হয়নি বলে নির্যাতিতা জানান। ওই নারী নিজেই বলেছেন, মেইতেই সম্প্রদায়ের এক মহিলা সংগঠন তাকে ধর্ষকদের হাতে তুলে দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে গত ৪ মে দুই কুকি নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ভিডিও ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে একই দিনে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে দুই কুকি নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করার খবর প্রকাশ পায়।

এফআইআরে তিনি জানিয়েছেন, মেইতেই মহিলাদের সংগঠন ‘মিরা পাইবিস’, যা ‘মাদার্স অব মণিপুর’ নামেও পরিচিত - ওই সংগঠনই কালো পোশাক পরিহিত, সশস্ত্র চারজনের হাতে তুলে দেয় তাকে।  দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং পাশবিক অত্যাচারে এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, পাশের রাজ্য নাগাল্যান্ডের একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি হতে হয়। শুক্রবার শেষ পর্যন্ত কাংপোকপি থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করতে সক্ষম হন।

নির্যাতিতার জিরো এফআইআরে শারীরিক নির্যাতন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নৃশংস আচরণের মামলা যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তকদের ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ বলে উল্লেখ করা রয়েছে। তবে মেইতেই মহিলা সংগঠনের নাম উল্লেখ রয়েছে। কাংপোকপি থানা থেকে জিরো এফআইআর-টি ইতোমধ্যেই ইম্ফল ইস্ট থানায় স্থানান্তরিত হয়েছে। 

এফআইআরে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, চার জনের মধ্যে দু’জনের বয়স মধ্য তিরিশ। বাকি দু’জনের বয়স ৫০ বছরের উপরই। ওই তরুণীর অভিযোগ, মেইতেই মহিলা সংগঠনের একজন তাকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেন। তার পর তাকে জোর করে অন্য একটি গাড়িতে তোলা হয়। 

গাড়িতে তুলে আবারও চলে অত্যাচার। লাথি, চড়, ঘুষি, যৌন নিগ্রহ, বাদ যায়নি কিছুই। নির্যাতিতার দাবি, তাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই তরুণী। জ্ঞান ফিরলে আবারও মারধর শুরু হয়। এর পর চারজনের মধ্যে তিন জন দফায় দফায় ধর্ষণ করেন তাকে। এত অত্যাচার চালানো হয় যে কান, মুখ, মাথা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। তার পরেও তাকে বাঁচিয়ে রাখা নিয়ে বচসা চলছিল অভিযুক্তদের মধ্যে। এর পর চারজনের মধ্যে একজন গাড়ি নিয়ে ধাক্কা মারেন ওই তরুণীকে। তাতে ঢাল বেয়ে নীচের রাস্তায় পড়ে যান তিনি। একজন অটোরিকশা চালক তাকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর থানায় নিয়ে যান। কারও নজরে যাতে না পড়েন, তার জন্য নির্যাতিতার উপর শাক-সবজির বস্তা চাপিয়ে দেন ওই ব্যক্তি।

ওই তরুণী জানিয়েছেন, থানায় পৌঁছে দেখা যায়, যে পুলিশকর্মীরা তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে যাচ্ছেন, তারা মেইতেই সম্প্রদায়ের। তাতে ওই রিকশা চালকের কাছে সহায়তা চান তিনি। পুলিশের উপর ভরসা না করে, ওই রিকশা চালককে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে নিয়ে যেতে আর্জি জানান। এর পর ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ইম্ফল ছাড়েন এবং সাপোরমিনা পৌঁছান। কাংপোকপি গেলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক দেখে সেখানকার হাসপাতাল থেকে নির্যাতিতাকে কোহিমা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি