ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

২০২৩ সালে বসবাসের জন্য বিশ্বের সেরা ১০ শহর


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩১ জুলাই, ২০২৩, ০৭:০৭ পিএম

২০২৩ সালে বসবাসের জন্য বিশ্বের সেরা ১০ শহর

 ২০২৩ সালে বসবাসের জন্য বিশ্বের সেরা ১০ শহর

 করোনা মহামারির স্থবিরতার পরে বিশ্বের অনেক শহরে জীবনযাত্রার মান আবার উন্নত হতে শুরু করেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, অনেক শহরে সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান গত ১৫ বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামোসহ নানা বিষয়কে সূচক ধরে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট প্রতি বছর ১৭৩টি শহরের তালিকা তৈরি করে।

বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং কিয়েভের মতো শহরগুলিতে ক্রমাগত সংঘাতে নাগরিক অস্থিরতার মুখে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীলতার স্কোর অনেকখানিই কমে গেছে। কিন্তু এরপরও মূলত এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে কোভিড বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর সংস্কৃতি এবং পরিবেশের সূচকও উন্নত হয়েছে। কারণ, আবার নানা ধরনের ইভেন্টের আয়োজন শুরু হয়েছে। যদিও উপাত্ত দিয়ে এসব শহর কতখানি বাসযোগ্য তার একটা ছবি তুলে ধরা যায়, কিন্তু এসব শহরে যারা দিনের পর দিন বসবাস করছেন তারাই ভাল বলতে পারবেন কেন শহরগুলো তাদের এত পছন্দের।

চলতি বছরের সেরা ১০টি শহরের মধ্যে বিবিসি সংবাদদাতা কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেছেন। জানার চেষ্টা করেছেন কেন তারা ঐ শহরগুলিকে বেছে নিয়েছেন।
স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, শিক্ষা আর অবকাঠোমো খাতে সর্বোচ্চ স্কোর নিয়ে ভিয়েনা এবছরও তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

 বাসযোগ্যতার সূচকে এক নম্বর স্থান পাওয়া অস্ট্রিয়ার রাজধানীর জন্য মোটেই নতুন কোন ঘটনা না। শুধুমাত্র ২০২১ সালে কোভিড মহামারিতে এই শহরের যাদুঘর এবং রেস্তোরাঁগুলি বন্ধ থাকায় স্বল্প সময়ের জন্য ভিয়েনার অবস্থান নীচে নেমে গিয়েছিল। স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অবকাঠামোতে নিখুঁত স্কোর - সব মিলিয়ে ভিয়েনার আকর্ষণ সেরা, বলছেন এর বাসিন্দারা।
সেরা ১০ বাসযোগ্য শহর:

ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
ভ্যাঙ্কুভার, ক্যানাডা
জুরিখ, সুইটজারল্যান্ড
ক্যালগারি, ক্যানাডা/জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড
টরন্টো, ক্যানাডা
ওসাকা, জাপান/অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড

মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া: স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ এবং মহামারির সময় দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন থাকার ফলে মেলবোর্ন এবং সিডনি - দুটি শহরের স্কোর একসময় নীচে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা আবার শীর্ষ ১০-তালিকায় ফিরে এসেছে। (শহর দুটির র‌্যাঙ্কিং যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ)। বিশেষ করে মেলবোর্ন শহর সারা দেশের সংস্কৃতি এবং পরিবেশ সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। এটি এমন বৈশিষ্ট্য যার জন্য শহরটির বাসিন্দারা খুবই গর্ব করেন। ভ্যাঙ্কুভার, ক্যানাডা: (ক্যালগারি এবং টরন্টোসহ) তিনটি ক্যানাডিয়ান শহর এবছর বাসযোগ্যতার তালিকায় শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু উন্নত সংস্কৃতি এবং পরিবেশের স্কোরের কারণে ভ্যাঙ্কুভার সর্বোচ্চ (পাঁচ নম্বরে) স্থান পেয়েছে। এ দুটি এমন বৈশিষ্ট্য যার কারণে ভ্যাঙ্কুভারের প্রতি শহরটির বাসিন্দাদের রয়েছে অনেক ভালবাসা। "ভ্যাঙ্কুভার থেকে অরণ্য, সমুদ্র এবং আকাশে যাওয়া খুবই সহজ," বলছিলেন টনি হো। তিনি ঐ শহরের একটি ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। "আমাদের গণ-পরিবহনে চড়ে কিংবা বাস, বাইক, ট্রেন এবং নৌকা ব্যবহার করে আপনি একই দিনে নয়নাভিরাম ইংলিশ বে থেকে শুরু করে গ্রাউস মাউন্টেনে শহরের সর্বোচ্চ পয়েন্টে যেতে পারবেন।"ভ্যাঙ্কুভারের বৈচিত্র্যময় সব খাবারও হো’র খুব পছন্দ, যা শহরটির বহু-সংস্কৃতির প্রতিফলন। ইথিওপিয়ান ইনজেরা শুরু করে থেকে তিব্বতি মোমো পর্যন্ত সবই আপনি খুঁজে পাবেন এখানে। "ভ্যাঙ্কুভারের খাদ্য সংস্কৃতি এবং সেগুলি ভাগ করে নেয়ার লোক দিন দিন বাড়ছে।" সহজ অভিবাসন নীতির সুবাদে নানা দেশের ব্যবসায়ীরাও এখন ভ্যাঙ্কুভারের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

ওসাকা, জাপান: বাসযোগ্যতার তালিকায় ১০তম অবস্থানে হলেও, শীর্ষ দশে পৌঁছানো এশিয়ার একমাত্র শহর ওসাকা কিন্তু স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার সূচকে নিখুঁত ১০০ স্কোর করেছে। বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক পরিবারের আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, কিন্তু জীবনযাত্রার নিচু ব্যয় ওসাকার বাসিন্দাদের জন্য একটি বিশাল প্লাস। "জাপান এবং বিশ্বের অন্যান্য শহরগুলির তুলনায় ওসাকার বাড়িভাড়া তেমন ব্যয়বহুল না," বলেছিলেন একজন বাসিন্দা শার্লি ঝাং, যিনি মূলত এসেছেন ভ্যাঙ্কুভার থেকে।

হোটেল রেস্তোরাঁয় সস্তায় খাবারও ওসাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়। একই মাপের অন্য শহরগুলির তুলনায় ওসাকার বাসিন্দা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করেন। "মাঝরাতে পায়ে হেঁটে একা বাড়িতে ফিরতে আমার মোটেও ভয় করে না," মিজ ঝাং বলেছিলেন। যদি চোখের আড়ালও হয়, তবুও তার ব্যাগ কিংবা পার্স চুরি যাওয়া নিয়ে কখনই তার কোন রকম দুশ্চিন্তা হয় না। ওসাকার গণ-পরিবহন ব্যবস্থা বেশ নির্ভরযোগ্য। ওসাকা ট্যুরিজম ব্যুরোর মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ জোনাথন লুকাস বলেন, "শহর এবং আশেপাশের এলাকায় রয়েছে রেল যোগাযোগের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।"

অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড:  ওসাকার সাথে তালিকায় যৌথভাবে রয়েছে অকল্যান্ড। গত বছর থেকে শহরটি ২৫টিরও বেশি ধাপ পেরিয়েছে। শিক্ষা খাতে নিখুঁত স্কোরের পাশাপাশি, অন্যান্য শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে সংস্কৃতি এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে অকল্যান্ড সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। শহরটির বাসিন্দারাও একই কথা বলেন।
"অকল্যান্ডে যারা থাকেন তাদের বেশিরভাগই মাত্র ২০ মিনিট গাড়ি চালিয়ে একটি সুন্দর নির্জন সমুদ্র সৈকতে চলে যেতে পারবেন,” বলছিলেন শহরের একজন বাসিন্দা মেগান লরেন্স। তিনি মাই মোমেন্টস অ্যান্ড মেমোরিস শিরোনামে ব্লগ লেখেন। "আমাদের দোরগোড়ায় রয়েছে একটি অত্যাশ্চর্য জলজ বিশ্ব, এবং এটি উপভোগ করার জন্য রয়েছে অনেক সুব্যবস্থা। একইভাবে শহরটির চারপাশে রয়েছে দেশীয় গাছের জঙ্গল, যেখানে হারিয়ে গেলে মনেই থাকবে না যে আপনি কোনও শহরের কাছাকাছি আছেন।" নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম শহর হিসাবে অকল্যান্ডের বাসিন্দারা অনেক বিশ্বমানের ইভেন্ট উপভোগ করেন। এর মধ্যে রয়েছে চলমান ২০২৩ ফিফা নারী বিশ্বকাপ ফুটবল। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি