এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৩, ০৮:০৮ পিএম
হরিয়ানা সহিংসতায় ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব, হাই অ্যালার্ট দিল্লিতেও
সোমবার থেকে শুরু হওয়া হরিয়ানা দাঙ্গা গুরুগ্রামকে ছাড়িয়ে আরো এলাকায় বেড়েছে, যেখান থেকে রাজধানী দিল্লির দূরত্ব ২০ কিলোমিটারেরও কম। এজন্য আশঙ্কা করা হচ্ছে, হরিয়ানা দাঙ্গার আঁচ দিল্লিতেও আছড়ে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার সহিংসতার পর খুচরা পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রির উপর নিষেধজাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দাঙ্গাক্ষুব্ধ গুরুগ্রাম পুলিশ জানিয়েছে, ‘আজকে কিছু জ্বালাও-পোড়াওর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তেমন কোনো বড় ধরনের ঘটনা নেই।’
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরিয়ানার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়ত পূর্ব-পরিকল্পিত। এমনই ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে তদন্তকারীদের। পুলিশ জানাচ্ছে, সহিংসতায় মৃত দুই হোমগার্ড এবং অপর একজন প্রাণ হারিয়েছেন গুলিতে। প্রশ্ন উঠছে, এত বন্দুক এল কোথা থেকে।
পুলিশ জানিয়েছে, হরিয়ানার সহিংসতায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও নুহ্ জেলার সহিংসতায় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পুলিশের অনুমান, দেশি বন্দুক ব্যবহার করছে দাঙ্গাবাজরা। এই আবহে এই সহিংসতার ঘটনা পূর্ব-পরিকল্পিত বলে মনে করছেন তারা। পুলিশের দাবি, স্থানীয় বন্দুক প্রস্তুতকারকরা এমন ৫০০ দেশি বন্দুক ও পিস্তল সরবরাহ করেছে। এছাড়াও খালি বোতলে পেট্রোল বোমা বানানো হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের গোয়েন্দারা কী করছিল? তাদের কাছে কোনও তথ্য কেন ছিল না? তাতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এদিকে পড়শি গুরুগ্রামে এই সহিংসতার জেরে বন্ধ থাকছে স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনেক অফিস কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার একটি ধর্মীয় মিছিলকে আটকানোর অভিযোগে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হরিয়ানার নুহ্ এবং গুরুগ্রাম জেলায়। উল্লেখ্য, হরিয়ানার বজরং দল কর্মী মনু মানেসারকে কেন্দ্র করেই সেখানের নুহ্ এবং গুরুগ্রাম জেলায় সোমবার সংঘর্ষ শুরু হয়। সেদিন সন্ধ্যার দিকে গুরুগ্রাম সোহনা হাইওয়েতে সংঘর্ষ ছড়াতে থাকে। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ভিওয়ানিতে দুই মুসলিম যুবককে খুন করার ঘটনায় মনু পলাতক। সেই মনু ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছিল এই ধর্মীয় মিছিলে সে থাকবে। এই আবহে গুরুগ্রাম আলওয়ার হাইওয়েতে এই যাত্রা থামান কয়েকজন। এরপরই মিছিলকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। সরকারি ও বেসরকারি গাড়িকে লক্ষ্য পাথর ছোঁড়া হয়। সেই সময় পাশের এক শিবমন্দির চত্বরে আশ্রয় নেন প্রায় ২৫০০ মানুষ। পরে নিরাপত্তাবাহিনী তাদের উদ্ধার করে ।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি ।