এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৩, ০৭:০৮ পিএম
আটকের সময় ইমরান খানকে মারধর, আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না
পাকিস্তানে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তার লিগ্যাল টিমকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ইমরান খানের লিগ্যাল টিম একথা জানায়। এছাড়া ইমরানের একজন ঘনিষ্ঠজন জানান যে, শনিবার গ্রেপ্তার করতে আসা ব্যক্তিরা আটকের সময় ইমরান খানকে মারধর করেন এবং তাকে গাড়ির ভেতরে নিক্ষেপ করেন।
ইমরান খানের লিগ্যাল টিমের একজন মুখপাত্র শনিবার রাতে বলেন, তার সঙ্গে দেখা করা ও তার ভালমন্দ জানার অধিকার তাদের রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে নির্বাচন কমিশন জানায় যে, রাষ্ট্রীয় উপহার সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনায় ইমরান খান জড়িত থাকলে তার ক্ষমতায় আসার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়টি উচ্চ আদালতে রেফার করার পরও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার বিচার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ইসলামাবাদের ফেডারেল কোর্ট ইমরান খানকে তোশাখানা মামলায় তিন বছরের জেল প্রদান করে। এরপর ইমরান খানকে তার লাহোরের বাসভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাকে শহরের থেকে দূরে জেলখানায় নেওয়া হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিগ্যাল টিমের মুখপাত্র এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও ম্যাসেজে বলেছেন, আমার আটক জেল সুপার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাঈম হায়দার পাঞ্জুথার সঙ্গে যোগায়োগ করে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকরার সবাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের কেউই আমাদের অনুরোধে কোন সাড়া দেননি।
তিনি বলেন, আমাদের তাদেরকে বলেছি যে, আমাদের ইমরান খান স্বাক্ষরিত পাওয়ার অব এটর্নি ও অন্যান্য দলিল গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ আমাদেরকে বিভিন্ন আবেদন করতে হবে এবং আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করতে হবে। এ ছাড়া তোশাখানা মামলার রায়ও তারা চ্যালেঞ্জ করবেন। কিন্তু তার সঙ্গে তাদেরকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি।
পাঞ্জুথা বলেছেন, ইমরানের লিগ্যাল টিম তার ভালমন্দ জানতে এবং তাকে কাপড়, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রদানের জন্য তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন কিন্ত তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার লিগ্যাল টিমের সাক্ষাতের অধিকারের ব্যাপারে ‘কোন সবুজ সঙ্কেত’ দেয়নি। কারণ তিনি এখন জেলখানায় আটক আছেন।
ইমরানের ঘনিষ্ট একজন সহযোগী জুলফি বোখারি। তিনিও এক ভিডিও ম্যাসেজে বলেছেন, দেশ ও বিচার বিভাগের জন্য লজ্জার বিষয় হল যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লিগ্যাল টিমকে তোশাকানা মামলায় যুক্তি পেশ করার কোন সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও প্রশ্ন করেন ৩৫ পৃষ্ঠার এ রায় কিভাবে মাত্র ৩০ মিনিটে লেখা হল।
বোখারি বলেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পেছনের দরজা ভেঙ্গে ইমরানের বাসভবনে প্রবেশ করেন। এসময় তারা ইমরানের চারপাঁচ জন স্টাফকে মারধর করেন। এছাড়া ইমরানের বাসভবনে আটক করতে আসা কর্মকর্তার তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। টানাহেচড়া করে নিয়ে যান এবং মারধর করেন এবং তাকে গাড়ীর ভেতরে নিক্ষেপ করেন।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি