ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ভারতের হরিয়ানায় দাঙ্গাকবলিত নূহ-তেও এবার ‘বুলডোজার জাস্টিস’


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৬ আগস্ট, ২০২৩, ০৭:০৮ পিএম

ভারতের হরিয়ানায় দাঙ্গাকবলিত নূহ-তেও এবার ‘বুলডোজার জাস্টিস’

 ভারতের হরিয়ানায় দাঙ্গাকবলিত নূহ-তেও এবার ‘বুলডোজার জাস্টিস’

রোববার সকালেই দাঙ্গাবিধ্বস্ত নূহ-তে ‘সাহারা ফ্যামিলি হোটেল’ নামে একটি মুসলিম মালিকানাধীন চারতলা হোটেল ভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, সোমবার (৩১ জুলাই) নূহ-তে সহিংসতার দিন ওই হোটেল ভবনের ছাদ থেকেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পাথর ও ইঁট ছোড়া হয়েছিল।

নূহ জেলার সরকারি টাউন প্ল্যানার ভিনেশ কুমার অবশ্য রোববার দাবি করেছেন, ওই হোটেলটির স্থাপনা পুরোপুরি অবৈধ ছিল এবং সেটিকে ভাঙার ব্যাপারে অনেক আগেই তারা নোটিশ দিয়েছিলেন।

তবে নূহ-র পাশাপাশি দাঙ্গা ছড়িয়েছে লাগোয়া অভিজাত এলাকা গুরগাঁওতেও, কিন্তু মুসলিম-অধ্যুষিত নূহতে বুলডোজার নামানো হলেও হিন্দু-প্রধান গুরগাঁওতে কিন্তু কোনও বুলডোজার নামেনি।

আইন-আদালতে কেউ দোষী বলে প্রতিপন্ন হওয়ার আগেই তাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে এভাবে শাস্তি দেওয়ার প্রথা ভারতে ‘বুলডোজার জাস্টিস’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে। এটা প্রথম শুরু হয় বিজেপির যোগী আদিত্যনাথ শাসিত উত্তর প্রদেশে।

তবে বুলডোজার দিয়ে যাদের বাড়িঘর বা দোকানপাট ভাঙা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মুসলিম।

সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেল থেকে হরিয়ানার নূহ-তে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি মিছিলকে ঘিরে যে সহিংসতার সূত্রপাত হয় তাতে নূহ ও সংলগ্ন গুরগাঁওতে কম করে ছজনের প্রাণহানি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(৩ আগস্ট) পরিস্থিতি একটু নিয়ন্ত্রণে আসতেই নূহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে জেলা প্রশাসন বুলডোজার নিয়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করে দেয়।

মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকাটিতে বহু স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট, খাবারের স্টল, বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকান মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার(৫ আগস্ট) আবার নূহ থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে তাউরু নামে একটি জায়গায় একটি অস্থায়ী বস্তি বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, এই বস্তির বাসিন্দাদের অনেকেই সোমবার পাথর ছোঁড়ায় ও দাঙ্গাহাঙ্গামায় জড়িত ছিলেন।

তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা গরিব অভিবাসী মুসলিমরা ওই বস্তিতে থাকতেন ও দিনমজুরের কাজ করে পেট চালাতেন। বুলডোজার অভিযানের পর তারা মাথার ওপর পলিথিন বা তেরপলের সেই ছাদটুকুও হারিয়েছেন।

গত বছর উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে জাভেদ মোহামেদ নামে একজন সুপরিচিত অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদের পারিবারিক বাড়িও অবৈধ বলে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয় প্রশাসন। জাভেদ মোহামেদ ঠিক তার আগেই তখনকার বিজেপি মুখপাত্র নূপুর শর্মার ইসলামের নবীকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন।

ওই ঘটনার পর দেশের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতিরা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা এক খোলা চিঠিতে বিচারব্যবস্থার প্রতি আর্জি জানিয়ে বলেছিলেন, বুলডোজার ভারতের মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এবং এটা দেশে আইনি শাসনের লঙ্ঘন ছাড়া কিছুই নয়।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বুলডোজারকে কখনোই ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু নূহ-র সাম্প্রতিকতম ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, প্রশাসন যাদের দাঙ্গাকারী বলে মনে করছে আদালতের রায়ের অপেক্ষা না-করেই তাদের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর এই প্রবণতা এখন ছড়িয়ে পড়েছে হরিয়ানাতেও।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা  

এনবিএস/ওডে/সি