এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৩, ০৪:০৮ পিএম
আজ সন্ধ্যায় চাঁদে অবতরণ করবে ভারতের চন্দ্রযান বিক্রম
সরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-৩’র ল্যান্ডার বিক্রম অবতরণ (সফট ল্যান্ডিং) করবে। তার সঙ্গে চাঁদের মাটিতে পৌঁছবে রোভার প্রজ্ঞানও। চাঁদের মাটি ছোঁয়ার আগের ‘১৫ মিনিট’ অত্যন্ত ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। ভারতের এই উত্তেজনাকর ও আনন্দঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনে রয়েছেন। তিনি সেখান থেকেই এই ল্যান্ডিং দেখবেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
চাঁদের বুকে অবতরণের সেই দৃশ্য বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে সরাসরি সম্প্রচার হবে ইসরোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ইউটিউবে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত থাকবেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় সমস্ত স্কুল খোলা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। কৌতূহলী ছাত্রছাত্রীরা স্কুল থেকে অনলাইন মাধ্যমে চন্দ্রযান-৩-এর অবতরণ দেখতে পারবেন। এমনকি মহাকাশ বিশেষজ্ঞেরাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্য অপেক্ষা করছেন। ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞান গবেষণার অনন্য এই মুহূর্তকে সকলের স্মৃতির মণিকোঠায় স্থায়ী জায়গা দিতে অবতরণের মুহূর্ত সরাসরি পৌঁছে যাবে আপনার মোবাইল ফোনে। সেই লাইভ টেলিকাস্টে চোখ রাখবে ভারত।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বিক্রমের অবতরণের জন্য বুধবার সন্ধ্যাকেই বেছে নিলেন ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর বিজ্ঞানীরা? ইসরো বিজ্ঞানীদের দাবি, ২৩ আগস্ট তারিখটি খুব সাবধানে বেছে নিয়েছে ইসরো। চাঁদে অবতরণের পর ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান তাদের বাকি অভিযান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সৌরশক্তি ব্যবহার করবে। এ দিকে, চাঁদের এক মাস হয় পৃথিবীর হিসাবে ২৮ দিনে। এক চান্দ্রমাসে টানা ১৪ দিন রাত আর ১৪ দিন থাকে। তাই চন্দ্রযান যদি এমন সময়ে অবতরণ করে যখন চাঁদ অন্ধকারে ডুবে থাকবে, তা হলে, এটি কাজ করবে না। তাই সূর্যের আলো থাকতে থাকতেই ল্যান্ডার এবং রোভারটি চাঁদের বুকে নামাতে চাইছে ইসরো।
ইসরো হিসাব কষে দেখেছে ২২ আগস্ট চাঁদের রাত্রিযাপন শেষ হচ্ছে। ২৩ অগস্ট থেকে টানা ১৪ দিন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে দিন থাকবে। সূর্যের আলোয় ঝকঝক করবে চন্দ্রপৃষ্ঠ। ২৩ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ মেরুতে দিন থাকবে। ফলে সৌরশক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কাজ চালাবে বিক্রম এবং প্রজ্ঞান। পাশাপাশি, ভবিষ্যতের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখবে তারা।
ইসরোর সাবেক পরিচালক প্রমোদ কালের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর তাপমাত্রা মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায়। তীব্র শীতে দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান চালানো সম্ভব নয়। এই কারণেই চন্দ্রযান অবতরণের জন্য এমন সময় বেছে নেওয়া হয়েছে, যখন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সূর্যের আলো থাকবে।
চাঁদের দক্ষিণ গোলার্ধ এমন একটি জায়গা যেখানে এর আগে কোনও ‘মুন মিশন’ই অবতরণ করেনি। ভারত সেই স্পর্ধা দেখিয়েছে, যে স্পর্ধার প্রতি আস্থাশীল দেশের কোটি কোটি জনতা। এ ক্ষেত্রে তাঁদের একমাত্র আশঙ্কার জায়গা, অতীতে চন্দ্রযান ২ অভিযানের ব্যর্থতা। সে দিন হতাশ বিজ্ঞানীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি