এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৩, ০১:০৮ পিএম
চীনের ৩০ কোটি মানুষ ধূমপায়ী
বিশ্বের বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী ও ভোক্তা দেশ চীনে আনুমানিক ৩০ কোটি মানুষ ধূমপায়ী। বিশ্বের মোট ধূমপায়ী মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের অর্ধেকেরও বেশি তামাকে আসক্ত। দেশটিতে প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ তামাক ব্যবহারে মারা যায়।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচও ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) চুক্তি স্বাক্ষরের ২০ বছর পরও চীন এখনো সিগারেটে আসক্ত। তবে অধূমপায়ীর সংখ্যাও রয়েছে। ১৮ কোটি শিশুসহ ৭০ কোটির বেশি অধূমপায়ী রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই দিনে অন্তত একবার ‘সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোক’ (এসএইচএস) বা ধূমপায়ী ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে। যার ফলে বছরে ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করেছে ডব্লিউএইচও।
১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পরপরই বেইজিং ঘোষণা করে তামাক ও সিগারেট উৎপাদন স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তারপর থেকেই শুরু হয় তামাক প্রচলন। পরে ১৯৮০-এর দশকে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় ধূমপায়ীর সংখ্যা। সিগারেট হাতে ধরে ছবি তুলেছেন অনেক নেতা। তামাক উৎপাদন ও বিক্রির জন্য তামাক উৎপাদনকারী সংস্থা স্ট্যাট টোব্যাকো মনোপলি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসটিএমএ) বাণিজ্যিক শাখা চায়না ন্যাশনাল টোব্যাকো করপোরেশন তৈরি করা হয়।
দেশটির বেশিরভাগ অংশে তামাক শিল্পে কাজ করাকে সিভিল সার্ভিসে কাজ করার মতো মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে দেখা হয়। স্থিতিশীল আয়, ভালো বেতন ও কর্মচারী সুবিধাগুলোর জন্য চীনের তামাক কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন সিগারেট তৈরি করে। শিল্পটি ২০২২ সালে ১৩২ বিলিয়ন ইউয়ান লাভ করেছে। আগের বছরের ১১৮ ইউয়ান থেকে ১২ শতাংশ বেশি।
বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ও অসংক্রামক রোগের একক বৃহত্তম কারণ তামাকের ব্যবহার। প্রায় সব ধূমপায়ীই প্রায় তামাকজনিত অসুস্থতা যেমন ক্যানসার, ফুসফুস বা হৃদরোগে মারা যায়। ২০২১ সালে চীনের শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ কমিশন ধূমপানের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলোর বিশদ বিবরণ দিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বলা হয়, প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ তামাক ব্যবহারে প্রাণ হারায়। ২০৩০ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনটিতে সমাধানের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলেকট্রিক সিগারেটের জনপ্রিয়তা সমস্যাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সহজলভ্য ও নিকোটিনকে সুস্বাদু করে তোলায় এর দিকে ঝুঁকে পড়ছে তরুণরা। এজন্য ধূমপান নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চালায় দেশটি। বছরের পর বছর দেশটিতে ধূমপানবিরোধী প্রচারণা চালানোর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরকারি ভবনগুলোতে ধূমপান নিষিদ্ধ করেন। ২০২০ সালে পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ করার জন্য একটি আইন পাশ করা হয়।
বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংঝু ও শেনচেনের মতো বড় শহরগুলো ২০০৭ সাল থেকে সম্পূর্ণভাবে ধূমপান নিষিদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে অন্য শহরগুলোতে এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি