এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ০৮:০৯ পিএম
‘এক দেশ, এক ভোট’-এর বিরোধিতায় রাহুল গান্ধী
ভারতে ‘এক দেশ, এক ভোট’ সংক্রান্ত সমস্ত দিক পর্যালোচনা করার জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে মোদি সরকার। শনিবার রাতে এই কমিটির সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। রোববার রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পর মনে করা হচ্ছে, এই বিষয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আন্দোলন জোরদার করতে যাচ্ছে কংগ্রেস।
রোববার দুপুরে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে রাহুল সংবিধানের লাইন উদ্ধৃত করে লেখেন, “ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারত হচ্ছে রাজ্যগুলির সমষ্টি।” তার পরই ‘এক দেশ, এক ভোট-এর ধারণাকে আক্রমণ করে রাহুল লেখেন, “এই ধারণা ভারতের যুক্তরাষ্ট্র এবং রাজ্যগুলির উপরে আঘাত।”
এক দেশ, এক ভোট’ (ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন) নীতি রূপায়ণের কমিটিতে কারা কারা থাকছেন, শনিবার সেই নামের তালিকা প্রকাশ করেছিল মোদি সরকার। আগেই জানা গিয়েছিল, কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
শনিবার রাতে এই কমিটিতে থাকতে পারবেন না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহকে চিঠি দেন অধীর। এই কমিটি গঠনকে মোদি সরকারের ‘চোখে ধুলো দেওয়ার’ চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গেেক কেন কমিটিতে রাখা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অধীর।
সিনিয়র সাংবাদিক প্রদীপ সিং বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এ নিয়ে দুটো প্রস্তাব আগে থেকেই এসেছে। একটা হতে পারে যে লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আর পরে যেসব রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন নির্ধারিত হয়ে আছে, সেই সবগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে লোকসভা ভোটের সঙ্গে করানো হল। ‘দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হল বিজেপি আর সহযোগী দলগুলির সরকার যেসব রাজ্যে আছে, তারা নিজেরাই বিধানসভা ভেঙ্গে দিল আর বাকি রাজ্যগুলোতে সরকার বরখাস্ত করে দেওয়া হল,’ বলছিলেন প্রদীপ সিং।
নির্বাচন কমিশন আগে একাধিকবার বলেছে যে সারা দেশে একসঙ্গে ভোট করানোর মতো লজিস্টিকাল বন্দোবস্ত তাদের রয়েছে।
বিজেপির যুক্তি, একসঙ্গে সারা দেশে ভোট করালে নির্বাচনের বিপুল খরচ অনেকটা বাঁচবে। সেই অর্থ দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থে দলগুলি নির্বাচনী প্রচার করতে পারবে, তাতে কমে যাবে রাজনৈতিক দুর্নীতি। এছাড়াও একেক রাজ্যে একেক সময়ে ভোট হওয়ার ফলে আদর্শ আচরণ বিধি বলবৎ হয়ে যায়, যার ফলে সরকারি প্রকল্প রূপায়ন বন্ধ থাকে,এই যুক্তিও দিচ্ছেন দলের নেতারা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও বিজেপি নেতা বিমল শঙ্কর নন্দ বলছিলেন, “আমাদের মতো দেশে যেখানে সম্পদ খুব বেশি নেই, সেখানে সম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যয় করতে হবে। দেশের একটা বিরাট খরচ হয়ে যায় এই নির্বাচনগুলো করতে গিয়ে। তারওপরে যদি উপনির্বাচন হয় বা মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়, বিধানসভা বা লোকসভা উভয়েরই ক্ষেত্রে, তাতে বিপুল একটা খরচ হয়। “এরপরে ভোট এলেই আদর্শ আচরণ বিধি চালু হয়ে যায়, উন্নয়নের কাজ আটকিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ভারতের মতো একটা দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট হয়। এটা ভারতবর্ষের সামর্থ্যের বাইরে” বলছিলেন অধ্যাপক নন্দ।
এই যুক্তির পাল্টা প্রশ্ন করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তার কথায়, “ধরে নেওয়া যাক ২৮টা রাজ্য বিধানসভা আর লোকসভার নির্বাচন একসঙ্গে করানো হল। সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়মে সেই সরকারগুলো চলবে যতদিন তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে, ততদিন। কিন্তু তার আগে যদি কোনও সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, সেক্ষেত্রে কী হবে? পাঁচ বছরের বাকি সময়টায় কি সেখানে কোনও নির্বাচিত সরকার থাকবে না?” তিনি বলছেন, “এক রাষ্ট্র এক নির্বাচন নীতি ভারতের সংসদীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সম্ভব না। এটা অবাস্তব।“
নির্বাচন কমিশন এবং আইন কমিশনও একই সঙ্গে সারা দেশে ভোট করানোর পক্ষে থেকেছে, তবে এর জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে, একাধিক আইন, বিশেষ করে জন-প্রতিনিধিত্ব আইন, যার দ্বারা ভারতে ভোট নিয়ন্ত্রিত হয়, সেটারও বদল আনতে হবে।
এর ওপরে দেশের অর্ধেক রাজ্যের আইনসভায়, অর্থাৎ ১৪টি রাজ্য বিধানসভাতেও একই সঙ্গে ভোট করানোর প্রস্তাব পাশ করিয়ে আনতে হবে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি