এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ০১:০৯ পিএম
টার্গেট ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’; প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করতে চাচ্ছেন:
ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ অসম্ভব। ওয়াইসি বলেন, ‘অভিজ্ঞতামূলক তথ্যে প্রকাশ- যদি কেন্দ্র ও রাজ্যে একসঙ্গে নির্বাচন হয় তাহলে ৭৭ শতাংশ মানুষ একটি দলকেই ভোট দেবেন। তারা এতে পার্থক্য কিছু করবেন না। জাতীয় দলগুলোর রিসোর্স পার্সন বেশি হবে। সুষম প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র হবে না। এটা আসলে সম্পূর্ণ হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শকে কার্যকর করার প্রচেষ্টা এবং দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করার প্রচেষ্টা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বার বার ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর কথা বলছেন।’
ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নীতি কার্যকর করার তৎপরতা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার কথা ঘোষণা করেছেন। সেখানে বহুলালোচিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’র পাশাপাশি ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত বিল পাশ করানো হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।
শনিবার ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত নীতি রূপায়ণের কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এ ছাড়া, আরও সাত জন সদস্যকে নিয়ে কমিটি গঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ, মোট আট জন সদস্য থাকছেন ‘এক দেশ এক ভোট’ রূপায়ণ কমিটিতে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতির কার্যকর করার মাধ্যমে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনও করতে চাচ্ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সাফাই হল- এতে নির্বাচনের খরচ কমবে। একটি ভোটার তালিকাতেই দু’টি নির্বাচন হওয়ায় সরকারি কর্মীদের তালিকা তৈরির কাজের চাপ কমবে। নির্বাচনের ‘আদর্শ আচরণ বিধি’র জন্য বার বার সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে থাকবে না। নীতি আয়োগ, আইন কমিশন, নির্বাচন কমিশনও এই ভাবনাকে নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে বলেও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরেই নরেন্দ্র মোদি ‘এক দেশ এক ভোট’ তত্ত্ব প্রকাশ্যে এনেছিলেন।
বিরোধীদের দাবি-এই নীতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার ঘুরপথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ধাঁচের ব্যবস্থা চালু করতে চাচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ- এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতন্ত্রিক ভাবনার পরিপন্থী। বিজেপি-বিরোধী বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের আশঙ্কা, ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কার্যকর হলে লোকসভার ‘ঢেউয়ে’ বিধানসভাগুলো ‘ভেসে যাবে’। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয়, এমপি এবং বিধায়ক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেটুকু বৈচিত্র্যের সম্ভাবনা রয়েছে, বিজেপির আগ্রাসী প্রচারের মুখে তা ভেঙে পড়বে বলেও বিজেপি-বিরোধী বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের আশঙ্কা। মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি 'এক দেশ-এক নির্বাচন' সংক্রান্ত কোনো বিল আনা হলে তা অসাংবিধানিক হবে বলে মন্তব্য করেছেন। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি