ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

মনিপুরে প্রতিনিয়ত জুলুম-নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা আতংকে মানুষ: বিবিসির অনুসন্ধান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ০৮:০৯ পিএম

মনিপুরে প্রতিনিয়ত জুলুম-নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা আতংকে মানুষ: বিবিসির অনুসন্ধান

মনিপুরে প্রতিনিয়ত জুলুম-নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা আতংকে মানুষ: বিবিসির অনুসন্ধান

মনিপুরের মেইতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে ধানক্ষেতে বাংকার। বাঁশের খুটির ওপর টিনের চাল দিয়ে তৈরি এ বাংকার। এতে অবস্থান করছেন ৪ জন। সিমেন্টের বস্তাগুলোর ওপর রয়েছে তাদের রাইফেল।

তাদের বাংকার থেকে প্রতিপক্ষের বাংকার এক মাইলেরও কম দূরে অবস্থিত। এ ব্যক্তিদের সবাই গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য। গত মে মাসে রাজ্যটিতে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের সবচাইতে দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশটির প্রত্যন্ত রাজ্যটির গোষ্ঠীগত এ বিভক্তির অবস্থা হচ্ছে যুদ্ধকবলিত দেশগুলোর ভারী অস্ত্র সজ্জিত সীমান্তের মতো।          

চার ব্যক্তির একজন তাম্বা (ছদ্মনাম) বলেন,‘আমাদেরকেই নিজেদেরর রক্ষা করতে হবে। আমরা আতংকের মধ্যে আছি। কিন্তু আমাকে তা অবশ্যই গোপন রাখতে হবে।

সংখ্যাগুরু মেইতেই ও সংখ্যালঘু কুকি সম্প্রদায়ের মধে সহিংস দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রাজধানী ইম্ফালের দক্ষিণে ধানক্ষেতগুলো পতিত পড়ে আছে। এ দাঙ্গাকালে নৃশংস হত্যাকান্ড এবং নারী ধর্ষণসহ নানা যৌন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। রাজ্যটিতে দুইশ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে যার দুই তৃতীয়াংশই কুকি সম্প্রদায়ের। কুকি, জমি, চিন, হমার ও মিজো পাহাড়ী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সবাই কুকি হিসেবে পরিচিত। তাদের বেশিরভাগই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। আর মেইতেইরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

৪ মে মেইতেইরা  ২ কুকি নারীকে নগ্ন করে রাস্তা দিয়ে হাটায়। এক কিশোরীকে গণধর্ষণের শিকার হয়। এ সময় তার পিতা ও ১৯ বছরের ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

মেয়েটির মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সাংবাদিকরা। ভারতের ধর্ষণ আইন অনুযায়ী পরিবারের পরিচয় জানানো যাবে না। তিনি বলেন, আমার স্বামী ও ছেলেকে হত্যার পর আমার মেয়ের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা দেখে আমার আর বেঁচে থাকতে চাই না। আমার স্বামী ছিলেন স্বল্পভাষী গীর্জার প্রবীন ব্যক্তি তার দু’হাত ছুরি দিয়ে কেটে ফেলা হয়। অত্যন্ত নম্র স্বভাবের দ্বাদশ গ্রেডের ছাত্র আমার ছেলেকে ওরা রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। বোনকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়ায় তাকে বোনের চোখের সামনেই হত্যা করা হয়। মেয়েটি এখনো সেরে উঠেনি। সে খেতে ও ঘুমাতে পারে না। 

পুলিশের কাছে মে মাসে এ ঘটনার অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পুলিশ তার কোন তদন্ত করেনি। এরপর জুলাই এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তখনই ভারতের ও বিশ্বের সামনে মনিপুরের নৃশংস সংঘাতের ঘটনা প্রকাশ পায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তার নিরবতা ভাঙ্গেন। 

পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উভয় সম্প্রদায়ের শত শত বাড়িঘর, গীর্জা, ও মন্দির। বাস্তচ্যুত হয়েছে উভয় সম্প্রদায়ের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। তারা স্কুল, ক্রিড়া কম্পেলেক্স ও অন্যান্য স্থানে স্থাপিত শিবিরে বাস করছে। তারা বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি