ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

নদী, হ্রদ, জঙ্গল এককালে সবই ছিল আন্টার্কটিকায়, বরফ খুঁড়ে প্রকাশ্যে বহু আশ্চর্য তথ্য


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩০ অক্টোবর, ২০২৩, ০৫:১০ পিএম

নদী, হ্রদ, জঙ্গল এককালে সবই ছিল আন্টার্কটিকায়, বরফ খুঁড়ে প্রকাশ্যে বহু আশ্চর্য তথ্য

 নদী, হ্রদ, জঙ্গল এককালে সবই ছিল আন্টার্কটিকায়, বরফ খুঁড়ে প্রকাশ্যে বহু আশ্চর্য তথ্য

 গবেষকরা এমনটাই বলছেন। মাইলের পর মাইল বরফে ঢাকা। সবুজের প্রায় কোনও চিহ্ন নেই। এ হেন আন্টার্কটিকায় এক কালে ছিল না বরফের স্তর। এমনটাই দাবি করছেন গবেষণা। এইগবেষণাটি চালিয়েছে ব্রিটেনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল। উপগ্রহের সংগৃহীত তথ্য এবং রেডিয়ো-ইকো শব্দ প্রযুক্তির মাধ্যমে বরফের চাদরে ঢাকা ৩২ হাজার বর্গ কিলোমিটার জায়গায় গবেষণা চালিয়েছিল দলটি।

ভারত মহাসাগর সংলগ্ন পূর্ব আন্টার্কটিকার উইলকিস ল্যান্ড অঞ্চলে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। বেলজিয়ামের সমান সেই এলাকায় না কি এককালে ছিল নদী, জঙ্গল, শৈলশিরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই অঞ্চলেই বাঁধা পড়ে রয়েছে কোটি কোটি বছরের পুরনো অতীত। পূর্ব আন্টার্কটিকার ওই অঞ্চলের ভূমিরূপ খতিয়ে দেখেছে দলটি। ভূমির গঠনও পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতেই দেখা গিয়েছে, আন্টার্কটিকার ভূমিরূপ গঠন করেছে নদী। আর তা হয়েছে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ বছর আগে।

ব্রিটেনের উত্তর ওয়েলসে যে ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়, তার সঙ্গে আন্টার্কটিকার ভূমিরূপের মিল রয়েছে। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক স্টুয়ার্ট জেমিসন জানিয়েছেন, মঙ্গলের ভূমিরূপ নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, আন্টার্কটিকার ভূমিরূপ নিয়ে তার থেকে অনেক কম গবেষণা হয়েছে। তাই এই বিষয়ে অনেক কম তথ্য রয়েছে।

স্টুয়ার্ট মনে করেন, বিগত বছর ধরে আন্টার্কটিকার ভূমিরূপের খুব একটা বদল হয়নি। মনে করা হয়, অতীতে এই অঞ্চলের বরফের স্তর গলে যেত। ব্রিটেনের নিউ কাস্ল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিল রস জানিয়েছেন, বছরের পর বছর আন্টার্কটিকার এই ভূমিরূপ সাধারণ মানুষ, অভিযানকারীদের চোখের আড়ালে ছিল। অথচ পূর্ব আন্টার্কটিকার এই অংশই অতীত ইতিহাসের কথা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে জলবায়ু কী ভাবে পরিবর্তিত হবে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছে এই ভূমিরূপ।

রস জানিয়েছেন, এখন আন্টার্কটিকা ২.২ থেকে ৩ কিলোমিটার বরফের চাদরে ঢাকা। সেই চাদর সরিয়ে অনেক কিছুরই খোঁজ চালানো সম্ভব নয়। কোটি বছর আগে আন্টার্কটিকায় কী ধরনের প্রাণী বাস করত, তা-ও জানা সম্ভব হয়নি এখনও।

বিজ্ঞানী রস আরো জানিয়েছেন, এখন নিউজিল্যান্ডের তাসমানিয়ার নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টি অরণ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্যাটাগোনিয়ায় যে ধরনের ভূমিরূপ এবং ছোট উদ্ভিদ দেখা যায়, ৩ কোটি ৪০ লাখ বছর আগে আন্টার্কটিকার ভূমিরূপ ছিল সে রকমই। তখন সে রকমই উদ্ভিদ জন্মাত সেখানে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি