এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর, ২০২৩, ০৬:১১ পিএম
সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪১ শ্রমিকের মন ভাল রাখতে চলছে নানা চেষ্টা
১৬ দিন ধরে ভারতের উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের মন ভাল রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন। সকাল-সন্ধ্যা পুষ্টিকর আহার পাঠানো হচ্ছে পাইপের মাধ্যমে। দিনে দু’বার করে চলছে কাউন্সেলিং। রোজ দূর থেকে করা হচ্ছে শারীরিক পরীক্ষা। দু’বার করে কথা বলছেন পরিবারের লোকজনও। বার বার বলছেন একটাই কথা, ‘চিন্তার কিছু নেই!’ এ ভাবেই সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের মন ভাল রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন। মনকে চাঙ্গা রাখার পাঠ দেওয়া হচ্ছে তাঁদের।
১২ নভেম্বর থেকে সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন সাবা আহমদ। তাঁর সঙ্গে দিনে দু’বার করে কথা বলছেন ভাই নাইয়ার আহমদ। প্রতি বার তাঁকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন একটাই কথা, ‘‘ভয় পাবে না। আমরা চেষ্টা করছি।’’
সুড়ঙ্গে ধস নামার পর প্রায় দু’কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় আটকে পড়েছেন শ্রমিকেরা। সেখানে একটি পাইপ ঢুকিয়ে তার মধ্যে দিয়ে পাঠানো হয়েছে মাইক। সেই মাইকের মাধ্যমেই বাইরে অপেক্ষারত আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন শ্রমিকেরা।
সুড়ঙ্গের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাঁচ চিকিৎসকের একটি দল। তাদের মধ্যে কয়েছেন দু’জন মনোবিদ। রোজ সকাল ৯টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে ৮টা শ্রমিকদের কাউন্সেলিং করেন মনোবিদেরা। তাঁদের পাশাপাশি পরিবারের লোকজনও দিনের যে কোনও সময় চাইলে কথা বলতে পারেন শ্রমিকদের সঙ্গে। সব সময় ইতিবাচক কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিদেরা।
সুড়ঙ্গের বাইরে চিকিৎসকদের দলে রয়েছেন বিমলেশ জোশী। তিনি জানিয়েছেন, আটকে থাকা শ্রমিকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের লোকজনেরও কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। বোঝানো হচ্ছে, কোনও ভাবে যেন শ্রমিকদের কোনও নেতিবাচক কথাবার্তা তাঁরা না বলেন। এতে আটক শ্রমিকেরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।
অবশেষে মঙ্গলবার ইতিবাচক সংবাদ পাওয়া গেছে। ম্যানুয়াল মাইনিং প্রক্রিয়ায় আর পাঁচ মিটার খুঁড়লেই আটকে পড়া ৪১ শ্রমিকের কাছে পৌঁছাবেন উদ্ধারকর্মীরা। সোমবার যন্ত্রের পরিবর্তে কায়িক শ্রম নির্ভর 'ম্যানুয়াল ড্রিলিং' শুরু হয়েছে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি