ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ভারতে সোনা, জমি ও বিএমডব্লিউ যৌতুকদাবির পর নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৫:১২ পিএম

ভারতে সোনা, জমি ও বিএমডব্লিউ যৌতুকদাবির পর নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা

ভারতে সোনা, জমি ও বিএমডব্লিউ যৌতুকদাবির পর নারী চিকিৎসকের আত্মহত্যা

বিয়ের আগে সাহানার স্বামী প্রেমিক ছিলেন। যৌতুকের দাবি না মেটানোয় বিয়ে ভেঙে যায় সাহানার। শোক সামলে উঠতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ভারতের কেরালা রাজ্যের সাহানা। 

চিকিৎসক সাহানার বয়স ছিল ২৬ বছর। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার প্রেমিক বিয়ে করতে রাজি হলেও বিশাল যৌতুক দাবি করেন তিনি। সাহানার পরিবারের কাছ থেকে বিএমডব্লিউ গাড়ি ও বিপুল স্বর্নালঙ্কার দাবি করা হয়। এসব দেওয়ার মত আর্থিক ক্ষমতা ছিল না সাহানার পরিবারের। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সাহানাও। 

কেরালার তিরুবনন্তপুরম এলাকার বাসিন্দা সাহানা। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ এই অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সাহানা তিরুবনন্তপুরম মেডিকেল কলেজের সার্জারি ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন। তার প্রেমিকের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতে যৌতুকবিরোধী বিশেষ আইন রয়েছে। সেই আইনেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই প্রেমিককে। তার প্রেমিকও চিকিৎসক।

সাহানার বাবা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। তিনিই তার মা ও দুই ভাই-বোনের দেখভাল করতেন। তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার সহকর্মী চিকিৎসক রুবাইসের। কিন্তু বিয়ের জন্য বিশাল যৌতুকের শর্ত দেন তিনি। 

ঘটনাটি জানাজানি হলে নড়চড়ে বসে কেরালা সরকার। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ। মৃত চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, বিয়ে উপলক্ষ্যে রুবাইসের পরিবার ১৫০ ভরি স্বর্ণলঙ্কার, ১৫ একর জমি এবং একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দাবি করে। সাহানার মৃতদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে লেখা রয়েছে, সবাই শুধু টাকা চায়।

যৌতুকের দাবি সংক্রান্ত বিষয়ে কেরালা রাজ্য নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরকে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তাছাড়া বিষয়টি খতিয়ে দেখছে রাজ্যের সংখ্যালঘু কমিশনও। এ ব্যাপারে জেলাপ্রশাসক এবং সিটি পুলিশ কমিশনারকে একটি রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন এএ রাশেদ। এরই পাশাপাশি মেডিক্যাল শিক্ষা দফতরের কাছ থেকেও আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ভুক্তোভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশ্বাস দিয়েছেন কেরালা নারী কমিশনও।