ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

রপ্তানি বন্ধ তাই স্থলবন্দরে পচছে ভারতীয় পিঁয়াজ, টেলিগ্রাফ প্রতিবেদন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৬:১২ পিএম

রপ্তানি বন্ধ তাই স্থলবন্দরে পচছে ভারতীয় পিঁয়াজ, টেলিগ্রাফ প্রতিবেদন

রপ্তানি বন্ধ তাই স্থলবন্দরে পচছে ভারতীয় পিঁয়াজ, টেলিগ্রাফ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে স্থলবন্দরগুলোতে কার্গো ট্রাকে করে আনা পিঁয়াজ এসে পৌঁছালেও রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করায় এসব পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে পিঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে বন্দরগুলোতে বিপুল পরিমাণ পিঁয়াজ এসে আটকা পড়ে। সেগুলো কোনো ছাড়পত্র পাচ্ছে না। ওদিকে ট্রাকের ওপর রোদ পড়ায় ঘামতে শুরু করেছে পিঁয়াজ, বৃষ্টিতে এ পিঁয়াজ পচা শুরু হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রপ্তানিকারক, আমদানিকারকরা। ফলে বাংলাদেশে পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ঘটেছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের যেসব আমদানিকারক পিয়াজের অর্ডার দিয়েছিলেন, তাদের অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অপেক্ষায় আছে কমপক্ষে ১০০ কার্গো ট্রাক। এতে পিয়াজের পরিমাণ ৩০০০ টনের ওপরে। এসব পিয়াজ নিয়ে ট্রাকগুলো সীমান্তে আসার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার আকস্মিক রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

ফলে সীমান্তে ট্রাকের ওপর এসব পিঁয়াজে পচন শুরু হয়েছে। তা থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে। টেলিগ্রাফের সাংবাদিক শুভাশীষ চৌধুরী তার প্রতিবেদনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পশ্চিমবঙ্গের অংশে ট্রাকবোঝাই পিঁয়াজ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু করেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী বাংলাদেশে এর দাম বেড়ে চলেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আকস্মিক রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে এসব ট্রাক স্থল বন্দরে আটকে আছে। এতে রপ্তানিকারক এবং ফ্রেইটগুলোও লোকসানের মুখে রয়েছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পিঁয়াজের দাম ৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে উঠে গেছে। রপ্তানিকারক ও ফ্রেইটের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে ১০০ কার্গো ট্রাকে ৩০০০ টন পিয়াজ আমদানির অর্ডার দিয়েছিলেন বাংলাদেশিরা। পিঁয়াজ নিয়ে স্থলবন্দরে পৌঁছামাত্র ৭ই ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মহাপরিচালক আগামী বছর ৩১শে মার্চ পর্যন্ত পিঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানান। ভারতে যাতে আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পিঁয়াজ থাকে সে জন্য এই সিদ্ধান্ত। ভারতে বর্তমানে এক কিলোগ্রাম পিঁয়াজের খুচরা মূল্য প্রায় ৭০ রুপি। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় ৮ই ডিসেম্বর। 

একজন রপ্তানিকারক বলেছেন, আরও কমপক্ষে ১০০০ ট্রাক পিঁয়াজ সীমান্তের পথে রয়েছে। ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত আমাদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। সব স্থলবন্দরে এই নিষেধাজ্ঞা একরকম নয়। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর পেট্রোপোলে পিঁয়াজভর্তি ট্রাকগুলো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে অর্ডার পেয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনার বশিরহাটের কাছে গজলডাঙ্গা স্থল বন্দরে ভিন্ন। সেখানে নাসিক থেকে পিঁয়াজবোঝাই প্রায় ৩০টি কার্গো ট্রাক ৮ই ডিসেম্বর থেকে আটকে আছে। মালদার মাহাদিপুর স্থলবন্দরের ভিতরে ৭০টি এবং বাইরে ৮০টি কার্গো ট্রাক অপেক্ষায় আছে। নাসিকভিত্তিক এক রপ্তানিকারকের এজেন্ট শনিবার গজলডাঙ্গা বন্দরে বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উদ্বিগ্ন অবস্থায় আমরা অপেক্ষা করছি। কেন্দ্রীয় সরকার শিপমেন্টের বিষয়ে ক্লিয়ারেন্স না দিলে আমরা রপ্তানি বিল পাবো না। বড় রকমের লোকসান হবে আমাদের। চালানের অনেকটাই এরই মধ্যে পচে যাওয়া শুরু করেছে।

কিছু রপ্তানিকারক এসব ট্রাক থেকে বস্তা ধরে নিয়ে তা স্থানীয় গোডাউনে রাখছেন স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেয়ার জন্য। ওই এজেন্ট আরও বলেন, যদি এই শিপমেন্টের বড় অংশ পচে যাওয়া শুরু করে তাহলে যে দামই পাই, সেই দামে তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হবো। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিষেধাজ্ঞায় কেন্দ্রীয় সরকার যে তিনটি শর্ত আরোপ করেছে, তার একটিও অনুসরণ করেনি এসব শিপমেন্টের রপ্তানিকারকরা। তিনটি শর্তের ওপর পিয়াজ রপ্তানির অনুমতি আছে। তা হলো- যদি চালান বোঝাই পিঁয়াজ বোঝাই শুরু হয়ে থাকে নোটিফিকেশন দেয়ার আগে, যদি চালান এরই মধ্যে পৌঁছে থাকে এবং বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় থাকে। পিঁয়াজের চালান যদি কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে অথবা নোটিফিকেশনের আগে কাস্টমস স্টেশনে পৌঁছে থাকে। কাস্টমস সহকারী কমিশনার অনীল কুমার সিং বলেন, ভারত সরকারের নির্দেশ পরিষ্কার। এসব চালান তার কোনো শর্ত পূরণ করেনি। 

ওদিকে রপ্তানিকারক ও ক্লিয়ারিং এজেন্টরা বলেছেন, আকস্মিক এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশি আমদানিকারকরা সরকারের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার আগেই তাদের অর্ডার দিয়েছেন। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি