এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৩:১২ পিএম
কাশ্মীরে শুরু হল ‘চিল্লাই কালান’, ঠান্ডায় কাঁপছে ভূস্বর্গ
হাড়হিম শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ৪ ডিগ্রিতে। বরফে ঢেকেছে উপত্যকা। কাশ্মীরে শুরু হয়ে গেছে ‘চিল্লাই কালান’। বাড়িঘর, গাছপালার উপর বরফের চাদর। আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে তাতে আগামী ৪০ দিন এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডাতেই থাকতে হবে কাশ্মীরবাসীকে।
উত্তরের কুপওয়ারায় তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে হিমাঙ্কের প্রায় ৬ ডিগ্রি নীচে। অন্য দিকে, লেহতে পারদ গিয়ে দাঁড়িয়েছে হিমাঙ্কের ১৫.২ ডিগ্রিতে। প্রতি বছর ক্যাসপিয়ান সাগর থেকে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান হয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় প্রবেশ করে পশ্চিমী বায়ু। আর এর জেরেই কাশ্মীরে তুষারপাত ও বৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহকে কাশ্মীরি ভাষায় ‘চিল্লাই কালান’ বলে। আগামী ৪০ দিন এই পরিস্থিতি চলবে। তার পরের কুড়ি দিন চলবে ‘চিল্লাই খুর্দ’। আর তার পরের দশ দিন ‘চিল্লাই বাচা’। প্রত্যেক বছর ‘চিল্লাই কালানে’র প্রথম দিকে ভারী তুষারপাত হয়ে থাকে।
এ বছর এই সময় শুরু হয়েছে গত ২১ ডিসেম্বর থেকে। আনুমানিক ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই পর্ব চলবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ এই তাপমাত্রা পতনের জেরে পানি সরবরাহের পাইপ জমে গিয়েছে অনেক জায়গায়। ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা হিটার, কাংড়ি ও বুখারি।
চিল্লাই কালানের প্রথম দিনেই শ্রীনগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। গুলমার্গের তাপমাত্রা আরও নিচে নেমেছে মাইনাস ৩ ডিগ্রিতে। চিল্লাই কালানের সময় উপত্যকাবাসীদের পছন্দের খাবার হল রোদে শুকনো সব্জি। এই সব্জি দিয়েই হরেক রকম পদ রাঁধা হয় কাশ্মীরের ঘরে ঘরে।
হিমালয় থেকে হিমশীতল হাওয়া বয়ে আসার কারণে প্রবল ঠান্ডা জাঁকিয়ে বসেছে রাজধানী দিল্লিতেও। মাইনাসের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে মরু রাজ্য রাজস্থানের বহু এলাকার তাপমাত্রাও। আগামী তিনদিন পাঞ্জাব, আসাম, হরিয়ানা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুর ও ত্রিপুরার বেশ কিছু এলাকা ঢাকবে কুয়াশার চাদরে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি