ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

২০২৪ সালে ৩ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে উত্তর কোরিয়া


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৪:১২ পিএম

২০২৪ সালে ৩ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে উত্তর কোরিয়া

২০২৪ সালে ৩ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে উত্তর কোরিয়া

এগুলো হবে গোয়েন্দা কৃত্রিম উপগ্রহ। সামরিক শক্তি বৃদ্ধির  অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি। সামরিক ড্রোন তৈরি ও পারমাণবিক অস্ত্রাগার সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএন এ তথ্য জানায়। 

পিয়ংইয়ং গত মাসে সফলভাবে কক্ষপথে একটি গোয়েন্দা কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করে। তখন থেকে পিয়ংইয়ং দাবি করে আসছে, কৃত্রিম উপগ্রহটি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থান-স্থাপনার ছবি তুলে পাঠাচ্ছে।

চলতি বছর উত্তর কোরিয়া রেকর্ডভাঙাসংখ্যক বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই দেশটি তার সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষিতে এধরনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি করেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বলেছে, ২০২৪ সালে তিনটি অতিরিক্ত তথ্যানুসন্ধান কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কাজ ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের চলতি বছরের শেষ বৈঠকে আগামী বছরের জন্য নেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর এটি একটি।

পাঁচ দিনের এ বৈঠক গত শনিবার শেষ হয়। বৈঠকে কিম জং-উন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কোরীয় উপদ্বীপে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আসছে। তারা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। বছর শেষ হতে যাচ্ছে, তা সত্ত্বেও তারা উত্তর কোরিয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সামরিক হুমকি অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন নীতি যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলছে।

কিম বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে তিনি মৌলিক পরিবর্তন দেখিয়ে দেবেন। আরও বলেছেন, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা অর্জনের দিকে যাওয়া ছাড়া তার সামনে কোনো বিকল্প নেই। 

ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার বর্ষশেষের মিটিংয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একীভূত করা এখন আর অসম্ভব নয়। সিউল তাকে একজন শত্রু হিসেবে দেখে। প্রথমবারের মতো এ ধরনের কথা বললেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারিভাবে নীতি পরিবর্তনের কথা বললেন। অবশ্য  দুই কোরিয়াকে একীভূত করার উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই। চেষ্টাও করা হয়েছে সামান্য। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কঠিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তুলেছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাতে অসন্তুষ্ট উত্তর কোরিয়া। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী একটি মার্কিন সাবমেরিন দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করায় এই অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

রোববার বক্তব্য দেয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি লক্ষ্য করে কিম জং উন আরো বলেন, শত্রুরা আমাদের দিকে আগ্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। এ কারণে কোরিয় দ্বীপাঞ্চলে যেকোনো সময় যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তিনি দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক অস্ত্রের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়া। যদি আমরা দেখি যে শত্রু সেনারা সামরিক সংঘাতের কাছাকাছি, তাহলে যুদ্ধ শব্দটি খুবই বাস্তব হয়ে উঠবে। তিনি ঘোষণা করেন ২০২৪ সাল হবে অধিক সামরিক উন্নয়নের বছর। বিশেষ করে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে শক্তিশালী করা হবে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি