এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৪, ০৫:০৫ পিএম
রাফাহতে গণহত্যার ঘটনায় তোপের মুখে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের গাজার রাফাহ’য় একটি শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি গণহত্যার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র তোপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল।
গত রোববার দিবাগত রাতে রাফাহর ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষিত একটি শরণার্থীশিবিরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তাল আস-সুলতান এলাকায় তাঁবু দিয়ে গড়ে তোলা শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলের এই হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।
ওই গণহত্যায় আহত হয়েছেন আরও ২৫০ জন। হামলার পর শরণার্থীশিবিরের তাঁবুগুলোয় আগুন ধরে যায়। এতে অনেকে জীবন্ত পুড়ে মারা যান। অনেক আরব দেশ এ ঘটনাকে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করে ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বাধ্যতামূলক আদেশ মেনে অবিলম্বে রাফাহ’য় হামলা ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বৈশ্বিক সম্প্রদায় সমালোচনার মুখে ইসরায়েল বলেছে, এটি ‘দুর্ঘটনা’ ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এর প্রভাব তারা খতিয়ে দেখছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তদন্ত শুরু কথার কথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজায় কোনো নিরাপদ স্থান নেই। এই ভয়াবহতা অবশ্যই থামাতে হবে। কূটনীতিকেরা বলেছেন, এই হামলার বিষয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার (২৮ মে) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ইসরায়েলি হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ওয়াফাকে তিনি বলেছেন, এই হামলা ইসরায়েলের সীমা অতিক্রমকারী হত্যাযজ্ঞ।
নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হামলার নিশানা করার নিন্দা জানিয়েছে মিসর। দেশটি বলেছে, এটি ইসরায়েলের একটি পদ্ধতিগত নীতির অংশ, যার লক্ষ্য গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের পরিধি প্রসারিত করা, যাতে উপত্যকাটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কাতার একে আন্তর্জাতিক আইনের বিপজ্জনক লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে। দেশটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলা চলমান মধ্যস্থতা-প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলবে।
‘চলমান যুদ্ধাপরাধের’ জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে জর্ডান। সৌদি আরবও গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হত্যাযজ্ঞের নিন্দা করেছে।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ‘বর্বর ও খুনিদের’ জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন। বলেছেন, এ জন্য সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করবেন। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি