ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

দিনমজুরের কন্যা দীপ্তির ছটা প্যারালিম্পিক্সে, অ্যাথলেটিক্সে জিতলেন ব্রোঞ্জ 


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১২:০৯ পিএম

দিনমজুরের কন্যা দীপ্তির ছটা প্যারালিম্পিক্সে, অ্যাথলেটিক্সে জিতলেন ব্রোঞ্জ 

 

প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে দীপ্তির ছটা। তেলঙ্গানার দীপ্তি জীবনজির জন্ম ওয়ারাঙ্গলে। বুদ্ধিজনিত দুর্বলতাই দীপ্তির মানসিক সুস্থতার প্রতিবন্ধকতা। 

তবে তা জয় করেই তিনি মহিলাদের ৪০০ মিটারে জিতলেন ব্রোঞ্জ। টি২০ বিভাগে। বুদ্ধি সংক্রান্ত যাঁদের দুর্বলতা রয়েছে তাঁরাই এই বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ছবি- দীপ্তি জীবনজি ইনস্টাগ্রাম প্যারিসে জোড়া পদক জয় অধরাই থেকে গেল অবনীর, হতাশ করলেন ভাগ্যশ্রীও চলতি মাসেই ২১ বছর পূর্ণ করবেন দীপ্তি। ফিনিশিং লাইনে পৌঁছন ৫৫.৮২ সেকেন্ড সময় করে। সোনা জিতলেন ইউক্রেনের ইউলিয়া শুলিয়ার (৫৫.১৬ সেকেন্ড) এবং রুপো জিতলেন বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী তুরস্কের আইসেল ওন্ডার (৫৫.২৩ সেকেন্ড)।

 ওয়ারাঙ্গলের কাল্লেদা গ্রামের মেয়ে দীপ্তির বাবা জীবনজি ইয়াধিগিরি ও মা জীবনজি ধনলক্ষ্মী। তাঁদের হাফ একর কৃষিজমি ছিল। সেই জমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি অন্যদের খামারে দিনমজুরের কাজ করেন দীপ্তির বাবা-মা। AD ক্লাস নাইনে পড়ার সময় দীপ্তি প্রথমে নজরে পড়েন তাঁর স্কুলের পিইটি শিক্ষিকার। পরে দীপ্তি ভারতের জুনিয়র দলের কোচ রমেশের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন। দীপ্তিকে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিলেন পুল্লেলা গোপীচাঁদ। তিনিই বড় পরামর্শ দেন। গর্বের সঙ্গে রয়েছে সোনা হাতছাড়া হওয়ার হতাশা, রুপো জিতে অনুভূতি প্রকাশ সুহাসের গোপীচাঁদের পরামর্শেই দীপ্তির শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা হয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর দ্য এমপাওয়ারমেন্ট অব পার্সনস উইথ ইনটেলেকচুয়াল ডিসএবিলিটির। হায়দরাবাদে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাপর দীপ্তি মানসিক প্রতিবন্ধকতার সার্টিফিকেট পান। 

এতে প্যারা-অ্যাথলিট হিসেবে কেরিয়ার গড়ার সুযোগ পান দীপ্তি। AD ২০২২ সালে হাংঝৌ এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতীয় অ্যাথলিটদের দলে ছিলেন দীপ্তি। সেখানে ৪০০ মিটার টি২০-তে তিনি সোনা জিতেছিলেন। সেবার সময় করেছিলেন ৫৬.৬৯ সেকেন্ড। চলতি বছর জাপানের কোবে বিশ্ব প্যারালিম্পিক চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ৪০০ মিটার টি২০-তে সোনা জেতেন। নেমেছিলেন ১০০ ও ২০০ মিটারেও। সর্বভারতীয় ইন্টার-ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি সোনা জেতেন। প্যারিস প্যারালিম্পিক্সের ছাড়পত্র দীপ্তি আদায় করে নিয়েছিলেন ৫৬.১৮ সেকেন্ডের এশীয় রেকর্ড গড়ে। দীপ্তিকে অনেক প্রতিবন্ধকতাই জয় করতে হয়েছে। আর্থিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও নানা বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। তাঁর দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই সংশয়ী ছিলেন। প্যারালিম্পিক্সে দেশের জয়ধ্বজা উড়িয়ে তিনি সমালোচকদেরও জবাব দিলেন।

খবর ওয়ানইন্ডিার