এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৫, ০৬:০৫ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন টি-২০ অধিনায়ক লিটন দাস বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলতে দেশ ছাড়ছেন। টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া লিটন প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য বড় কিছু অর্জন করা। পাকিস্তান সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও লিটনের ফোকাস দলের প্রস্তুতি ও বিশ্বকাপে সাফল্য।
গত সোমবার প্রথমবারের মতো টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন লিটন দাস। আগামী টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া লিটন জানান, লম্বা সময়ের নেতৃত্ব তাঁকে দল গোছানোর সুযোগ দেবে। তিনি বলেন, “এটা ইতিবাচক। লম্বা সময় পেলে অনেক কিছু ভাবা যায়। দলকে কতটা গুছিয়ে নিতে পারি, সেটাই মূল লক্ষ্য। বিশ্বকাপে ভালো কিছু উপহার দিতে চাই। আমার হাত ধরে বড় কিছু হোক, এটাই চাই।” লিটনের ফোকাস সিরিজ জয় এবং নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়া।
পাকিস্তান সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লিটন বলেন, “বিসিবি এ বিষয়ে ভালো জানে। তারা যদি পাকিস্তানকে নিরাপদ মনে করে, তাহলে আমরা যাব।” তিনি স্পষ্ট করেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত বোর্ডের হাতে। এই মুহূর্তে তাঁর মনোযোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। লিটনের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি দলের মনোবল ঠিক রাখতে এবং বিতর্ক এড়িয়ে এগোতে চান।
খেলোয়াড় হিসেবে লিটনের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের পর তিনি কোনো আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ খেলেননি। তিনি স্বীকার করেন, “খারাপ সময় গেছে। বিপিএল, ডিপিএলে চেষ্টা করেছি। কখনো চেষ্টা করেও সাফল্য আসে না। তবে ক্রিকেটাররা দু-একটি সিরিজে খারাপ খেলেও কামব্যাক করতে পারে।” লিটন আশাবাদী যে তিনি ফর্মে ফিরবেন এবং দলের জন্য অবদান রাখবেন। অধিনায়কত্বের চাপ নিয়ে তিনি মজার ছলে বলেন, “অধিনায়ক না হয়েও খারাপ খেলেছি। এখন অধিনায়ক হয়ে উলটোটাও হতে পারে। নেতৃত্ব পেয়ে হয়তো ভালো খেলব।”
লিটনের নেতৃত্বের দর্শন বোঝা যায় তাঁর দল নির্বাচন ও খেলার ধরন নিয়ে বক্তব্য থেকে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই মূল। আমরা বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেয়ে বেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করব।” তিনি একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ক্রিকেটের পরিবর্তে ম্যাচ জয়ের উপর জোর দেন। “কখনো ২০০ রান তাড়া করতে হবে, কখনো ১৪০। আমি চাই খেলোয়াড়রা জয়ের চিন্তা করুক। একদিন ২০ বলে ৪০, পরের দিন ১৫ রান হতে পারে। মূল লক্ষ্য জয়।” এই বক্তব্যে লিটনের বাস্তববাদী ও নমনীয় নেতৃত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
দলের প্রস্তুতি নিয়ে লিটন বলেন, “টানা ম্যাচ থাকলে স্কিল উন্নতির সময় পাওয়া যায় না। এখন আমরা স্কিল নিয়ে কাজ করছি। স্কিল মানে শুধু পাওয়ার হিটিং নয়, সব দিক নিয়ে কাজ করছি।” টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি দলকে গড়তে চান। লিটনের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি বিশ্বকাপের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির উপর জোর দিচ্ছেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট রোল মডেলের কথা উল্লেখ না করে বলেন, “ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটোই থাকবে। আমি নিজের মতো নেতৃত্ব দিতে চাই।”
বিরাট কোহলির টেস্ট অবসর নিয়ে লিটন বলেন, “তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। কোহলি টেস্ট ক্রিকেটকে আগ্রাসী করেছেন। মাঠে তিনি আগ্রাসী, কিন্তু মাঠের বাইরে দারুণ মানুষ। ভারতের বিপক্ষে খেললে তাঁকে মিস করব।” লিটনের এই বক্তব্য কোহলির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং পেশাদার সম্পর্কের প্রতিফলন। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজটি লিটনের নেতৃত্বের প্রথম পরীক্ষা। এই সিরিজে জয় তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গতি আনবে। লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল কীভাবে পারফর্ম করে, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বড় প্রশ্ন। তাঁর বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের উপর জোর এবং জয়ের মানসিকতা দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। তবে পাকিস্তান সফরের অনিশ্চয়তা এবং নিজের ফর্ম ফেরানোর চ্যালেঞ্জ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
লিটন দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ টি-২০ দল নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সিরিজ এবং আসন্ন বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্ব কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা উদগ্রীব। লিটনের জয়ের মানসিকতা এবং দল গঠনের পরিকল্পনা কি বাংলাদেশকে বড় কিছু উপহার দেবে?