ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা নিয়ে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির রহস্য


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৪ জুলাই, ২০২২, ০৩:০৭ পিএম

মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা নিয়ে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির রহস্য

মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা নিয়ে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির রহস্য

ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোয়াদ হাসান সম্প্রতি সৌদি আরবের আল আরাবিয়া টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে জর্ডান ও মিশরের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তার দেশের মধ্যস্ততা নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন তা বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে।

ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি এমন সময় প্রকাশ্যে এলো যখন ইরান, জর্ডান এবং মিশর-এই তিন দেশের কেউই এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে নি এবং এর আগে ইরাকের এ প্রচেষ্টার খবর কোনো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায় নি। 

মূলত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিংবা গত কয়েক দশকে ইরানের সঙ্গে মিশর ও জর্ডানের মধ্যে সম্পর্ক এমন কোনো মাত্রায় উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল না যে তা নিরসনের জন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। যদিও তারা আঞ্চলিক মেরুকরণে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে ছিল কিন্তু তা কখনই সাংঘর্ষিক ছিল না। প্রকৃত পক্ষে দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং ভিন্নতা সত্ত্বেও তারা এমনভাবে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক এবং বৈদেশিক নীতি বজায় রেখেছে যা কখনই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের দিকে মোড় নেয় নেয় নি।  

তাই এমন একটি প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের আল আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আল আরাবিয়া টেলিভিশন চ্যানেলে এই ধরনের বক্তব্যের প্রচার এবং তা ফার্সি ভাষায় প্রচারিত বিবিসি ও রেডিও ফারদোতে পুন:প্রচার নিয়ে বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে।

সৌদি আরবের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এটা বলা যায় যে বর্তমানে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকার বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করার ব্যাপারে তেল আবিবের অবৈশ শাসক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ রয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আসন্ন সফরেই তা প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করছে ইসরাইল। কিন্তু একই সঙ্গে রিয়াদ উদ্বিগ্ন যে ইসরাইলের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সম্পর্ক ফাঁস হয়ে গেলে ইসলামি বিশ্বে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে। আর এ ফলে মনে করা হচ্ছে যে ইরাকের মধ্যস্থতা পরিকল্পনার মাধ্যমে মিশর এবং জর্ডানের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার রিয়াদের প্রচেষ্টা সৌদি আরবের রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। 

ইতিমধ্যে ট্রাম্প যুগের শেষের পর থেকে এবং ইরাকে মোস্তফা কাজেমির সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দেশটিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের দিকে ঠেলে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ইরাকের অভ্যন্তরে প্রতিরোধকামী শক্তি ও শিয়া জনগোষ্ঠী  উপস্থিতি থাকায় প্রথম ধাপে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সেখানে বালাদ শাম নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয় যাতে ইরাক এবং মিশর ও জর্ডান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তিন দেশের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের বিনিময়ে ইরাক এই দুই দেশের কাছ থেকে বিনামূল্যে বা সস্তায় তেল পাবেখবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে