এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৫, ০৮:০৬ পিএম
১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা হামলা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের এক মুহূর্ত। এই হামলার ফলে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারায় এবং শহর দু’টি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আজ ৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিপর্যয়ের প্রভাব জাপানের মানুষের জীবনে বহুবিধ আকারে বিরাজ করছে।
পরমাণু বিস্ফোরণের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ শুধুমাত্র মানুষকে হত্যা করেনি, বরং পরিবেশ ও ইকোসিস্টেমকে দীর্ঘমেয়াদিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তেজস্ক্রিয় কণা বাতাস, মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় বিস্ফোরণের পর বহু বছর ধরে অঞ্চলগুলো বসবাসের অনুপযোগী ছিল। কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে বিপন্ন করেছে। পাশাপাশি, বায়ুমণ্ডলে ছড়ানো ধুলো ও ধোঁয়া স্থানীয় জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে।
মানবদেহের ডিএনএ-তে এই বিকিরণের প্রভাব থেকে বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক রোগ ছড়িয়েছে। জন্মগত ত্রুটি, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঘটনা বেড়েছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জিনগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। জাপান সরকার বেঁচে থাকা বোমা যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে এ ক্ষত মোকাবেলা করছে।
এই মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ও বারাক ওবামার পারমাণবিক হামলার জন্য ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরত থাকা বিশ্ব রাজনীতির বিতর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। ৮০ বছর পরেও এই হামলার স্মৃতি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট আজও ঝাঁপিয়ে পড়ছে বিশ্ববাসীর স্মৃতিতে।