এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৫, ১২:০৬ পিএম
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের তৃতীয় দিনে উভয় পক্ষের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ইরানে ৮০ ও ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি সরকার দাবি করছে এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের "প্রতিরোধমূলক হামলা", কিন্তু বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ভিন্ন চোখে।
প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
ইসরায়েলের দাবি সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ১২ জুনের প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য নতুন কোনো হুমকি পাওয়া যায়নি। বরং হামলাটি ইসরায়েলের একতরফা সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইরানের সামরিক স্থাপনা, শক্তি সুবিধা এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা - যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলি শামখানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য:
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল তিনটি উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাচ্ছে:
১. ইরানের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করা
২. গাজা সংকট থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানো
৩. প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযোগগুলোকে ম্লান করা
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ওরি গোল্ডবার্গের মতে, গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুতির মুখে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চাচ্ছে। "নিরাপত্তানীতি"র অজুহাতে ইসরায়েল বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া:
হামলার পর ইরানে জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী হয়েছে। সরকারবিরোধীরাও জাতীয় পতাকার নিচে সমবেত হচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি হামলা সাধারণত ইরানিদের দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত করে, যা ইসরায়েলের "রেজিম চেঞ্জ" আশাকে ব্যর্থ করতে পারে।
এই সংঘাত এখন কেবল ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি জটিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক খেলায় পরিণত হয়েছে, যার ফলাফল পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।