এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৫, ১২:০৬ পিএম
গাজা উপত্যকায় আবারও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় প্রাণ গেল অন্তত ৪১ ফিলিস্তিনির। রবিবার (১৫ জুন) দিনভর সেনা ও বিমান হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত মানবিক সহায়তা সংস্থা জিএইচএফ-এর কেন্দ্রের আশপাশে মারা যান।
মধ্য গাজার আল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নেতসারিম করিডোরের কাছে জিএইচএফ-এর সহায়তা পয়েন্টে যাওয়ার পথে ইসরায়েলি গুলিতে প্রাণ হারান তিনজন। রাফাহ অঞ্চলে আরও দুইজন নিহত হন। বাইত লাহিয়ায় বিমান হামলায় মারা যান সাতজন, আর নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে এক পরিবারের ১১ সদস্য নিহত হন বলে জানা গেছে। বাকিরা নিহত হন দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো পৃথক হামলায়।
এই হামলা নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গাজায় সহায়তা কার্যক্রম চালানো জিএইচএফ জানিয়েছে, মে মাসের শেষ থেকে তারা খাদ্য বিতরণ শুরু করলেও নিয়মিত গোলাগুলির মুখে তাদের কার্যক্রম বিঘ্ন হচ্ছে। এ পর্যন্ত সহায়তা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে অন্তত ৩০০ জন নিহত ও ২,৬০০ জন আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ এক্স-এ লিখেছেন, “যেখানে গুলি চলে, সেখানে সহায়তা নয়, অপমানই বিতরণ করা হয়।”
জাতিসংঘও বলছে, ইসরায়েলি বাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এই নতুন মানবিক বিতরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের কোগাট দাবি করেছে, গত সপ্তাহে ২৯২টি সহায়তা ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তারা বলছে, সহায়তা যেন হামাসের হাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করেই তারা কাজ করছে। তবে হামাস পাল্টা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল মানবিক সহায়তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় প্রাণ গেছে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে।