ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ফাত্তাহ-২ থেকে হোভেইজেহ: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলে চাপে ইসরায়েল, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৯ জুন, ২০২৫, ১১:০৬ পিএম

ফাত্তাহ-২ থেকে হোভেইজেহ: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলে চাপে ইসরায়েল, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

 


ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে তেলআবিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে হাইপারসনিক ফাত্তাহ-২ এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হোভেইজেহ উল্লেখযোগ্য, যা ইসরায়েলের বহুস্তর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও ভেদ করেছে।

গত এক সপ্তাহে সংঘাতে ইরানে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৪০ জন, যাদের মধ্যে ৭০ জন নারী ও শিশু। অন্যদিকে, ইরানের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। রাজধানী তেলআবিবের সামরিক সদরদপ্তর 'কিরিয়া'তেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ইরান দাবি করে, তারা মোসাদের একটি ঘাঁটি ও সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—আয়রন ডোম, ডেভিড'স স্লিং, বারাক-৮ ও অ্যারো সিরিজ—সবগুলো ব্যবস্থাই সক্রিয় ছিল, তবু একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কৌশলে ছিল একসঙ্গে বিশালসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ, যাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়। ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি গতিসম্পন্ন, যা গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে—ফলে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা কঠিন। হোভেইজেহ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিচু উচ্চতায় উড়ে রাডার এড়িয়ে চলে, যা প্রতিরক্ষার জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে।

ইরান ভুয়া ডিকয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত করে তোলে এবং আসল হামলার পথ খালি রাখে।

এই যুদ্ধে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: কে কতদিন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধরে রাখতে পারে। কারণ, যুদ্ধ গতি পাবে অস্ত্রভাণ্ডারের গভীরতার ওপরই।