এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৫, ০৯:০৬ পিএম
ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল ইসমাইল ক্বানি সম্প্রতি তেহরানের একটি জনসমাবেশে সরাসরি উপস্থিত হয়ে তার মৃত্যুর গুজবকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার এই উপস্থিতির ভিডিও এবং ছবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভিও রয়েছে।
এর আগে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলি হামলায় ক্বানির মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়েছিল। তবে তার সরাসরি উপস্থিতি সেই সব গুজবকে নাকচ করে দিয়েছে। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় শহীদ কাসেম সোলাইমানির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ক্বানির এই উপস্থিতি প্রমাণ করে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ড কাঠামো এখনও অক্ষত রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ট্রাম্প ইসরায়েলের সমালোচনা করে উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল যদি পুনরায় হামলা চালায়, তাহলে তেহরান কঠোর পাল্টা জবাব দেবে। ইতিমধ্যে, ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা তারা ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ পারমাণবিক স্থাপনা হামলার জবাব হিসেবে দাবি করেছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ১৩ জুন থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৪০০ জনেরও বেশি নাগরিক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন শিশুও রয়েছে। আহতের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। অন্যদিকে ইরানি হামলায় ইসরায়েলের ২৮ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা এখনও রয়েই গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থায়ী শান্তির পথ এখনও অনিশ্চিত।