এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৫, ০৮:০৬ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমায় মাত্র পাঁচ মাসে প্রায় ৫০০ গৃহবধূ নিখোঁজ হয়েছেন—একটি তথ্য যা রীতিমতো চমকে দিয়েছে প্রশাসন ও সমাজকে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫৩৬ জন তরুণী নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের প্রায় ৯০ শতাংশই বিবাহিত।
এই নিখোঁজ ঘটনাগুলো প্রথমে বিচ্ছিন্ন পারিবারিক সমস্যা বলে মনে হলেও, এখন তা সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—কোথায় যাচ্ছেন এই নারীরা? কেনই বা তারা সংসার ফেলে চলে যাচ্ছেন?
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৃহবধূরা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ঘর ছেড়েছেন। মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, এমনকি টিকটকেও গড়ে উঠেছে এমন সম্পর্ক। অনেকেই বাইক থাকা প্রেমিক বা স্বামীর বন্ধুদের হাত ধরে পালিয়ে গেছেন। কেউ কেউ আবার সন্তান রেখেও পেছন ফিরে তাকাননি।
উদ্ধার হওয়ার পর অনেক নারী নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিচ্ছেন—‘আমি প্রাপ্তবয়স্ক, নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার আছে।’ এই ধরনের বক্তব্য সমাজকে নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।
সমাজতাত্ত্বিকরা বলছেন, এটি নিছক প্রেম বা টাকার মোহ নয়, বরং দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিষণ্নতা, অবহেলা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের বহিঃপ্রকাশ। সোশ্যাল মিডিয়া যেন নিঃসঙ্গ গৃহবধূদের কাছে হয়ে উঠেছে ‘পালানোর দরজা’।
এই ঘটনাগুলো ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে দেগঙ্গার এক ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গ্রুপে। বারাসাত জেলার প্রতিটি থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। অনেক স্বামী লোকলজ্জায় পুলিশের কাছে স্ত্রীর পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করছেন—এটিই পরিস্থিতির আরেক করুণ দিক।