এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত মিলেছে। সম্প্রতি ইরান তাদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে সামুদ্রিক মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ১৩ জুন ইরানের ওপর ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা এ তথ্য শনাক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালীতে এই প্রস্তুতি মূলত ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধমূলক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও এখনো এসব মাইন ব্যবহার হয়নি, তবে এই পদক্ষেপ ইরানের পক্ষ থেকে এক কৌশলগত বার্তা—যে তারা প্রয়োজনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এর যেকোনো অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর, ইরানি পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রস্তাব পাশ করে। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়, কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছেন, মাইন স্থাপনের পদক্ষেপটি হয়তো কেবল একটি চাপ সৃষ্টির কৌশল। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোনের তৎপরতা বাড়ছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, "অপারেশন মিডনাইট হ্যামার" এবং হুতিদের দমন অভিযান হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২১ মাইল প্রশস্ত হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এটি সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতারসহ পুরো অঞ্চলের জন্য জ্বালানি রপ্তানির লাইফলাইন। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালী বন্ধের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে ইরান, যা আজ বিশ্বশক্তিগুলোর জন্য অন্যতম নিরাপত্তা শঙ্কা।