ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

চীনের হুমকির মুখে ভারত-মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি অংশীদারিত্ব শক্তিশালী হচ্ছে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১২ জুলাই, ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম

চীনের হুমকির মুখে ভারত-মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি অংশীদারিত্ব শক্তিশালী হচ্ছে

ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা এবং ধূসর-জোন কৌশলের জবাবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস (MDA) বা সামুদ্রিক ডোমেইন সচেতনতা জোরদারে এক উচ্চ-প্রযুক্তি সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে।

এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো—সমুদ্রে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক সচেতনতা তৈরি করে নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এমডিএ-এর আওতায় বাস্তব সময়ে ডেটা বিনিময়, যৌথ নজরদারি, জাহাজ ট্র্যাকিং এবং সাবমেরিন শনাক্তকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চীন যেভাবে সাবমেরিন টহল, বেসামরিক জাহাজ ব্যবহার এবং সামুদ্রিক কেবল বিঘ্নিত করছে, তা এক নতুন প্রজন্মের হুমকির জন্ম দিচ্ছে। ২০২৩ সালে তাইওয়ানের কেবল ১২ বার কেটে ফেলা হয়, যার জন্য বেইজিংকে দায়ী করা হলেও তারা অস্বীকার করে।

ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্ব শুধু তথ্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের কাছে P-8I Poseidon ও MQ-9B ড্রোন সরবরাহ, SeaVision সফটওয়্যার হস্তান্তর, এবং সোনার প্রযুক্তির যৌথ উৎপাদন এরই অংশ।

এছাড়া ভারত ও আমেরিকার কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাবমেরিন সনাক্তকরণ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি এবং মানবহীন সামুদ্রিক যান তৈরিতে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে।

২০২৫ সালের মধ্যে ভারত নিজেই ৫২টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে স্থায়ী নজরদারি কাঠামো গড়ে তুলছে। তবে এর আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ভারতকে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

MDA আজ আর নিছক প্রযুক্তিগত প্রকল্প নয়; এটি আধুনিক নিরাপত্তার স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। চীনের সম্প্রসারণের বিপরীতে ভারত-মার্কিন যৌথ নজরদারি কৌশল গোটা ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলেই স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।