ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় শিশুদের দুর্দশা চরমে: অনাহার, ওষুধের অভাব ও মানবিক সংকটে মৃত্যুর মুখে লাখো শিশু


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২০ জুলাই, ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম

গাজায় শিশুদের দুর্দশা চরমে: অনাহার, ওষুধের অভাব ও মানবিক সংকটে মৃত্যুর মুখে লাখো শিশু

গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পিত অবরোধ, মানবিক সহায়তা গ্রহণের লাইনে হামলা এবং খাদ্য ও ওষুধের সংকটের কারণে গাজাবাসী আজ চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শিশু, নারী, বৃদ্ধ—কারো জন্যই নিরাপদ নেই গাজার হাসপাতাল কিংবা জরুরি বিভাগ। ইসরায়েলি বাহিনীর নির্যাতন এবং অনাহারে রাখার নীতির কারণে সাড়ে ছয় লাখের বেশি শিশু চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

আল-মায়াদিনের বরাতে পার্সটুডে জানায়, ইসরায়েলের অবরোধ এবং নিষ্ঠুর নীতির কারণে এখন পর্যন্ত অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে ৬৯ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকটে মৃত্যু হয়েছে আরও অন্তত ৬২০ জন শিশুর।

গাজা’র ফিলিস্তিনি মিডিয়া অফিস আরও জানায়, ইসরায়েল গাজার সব সীমান্ত ১৩৯ দিন ধরে বন্ধ রেখেছে এবং এসময়ে ৭৬ হাজারেরও বেশি ত্রাণ ও জ্বালানিবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি।

এছাড়া দখলদার বাহিনী ৫৭টি মানবিক সহায়তা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ১২১ বার সরাসরি ত্রাণ কাফেলায় হামলা করেছে, যা স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশুদের জন্য এই অবস্থা শুধুই মানবিক সংকট নয়, বরং একটি গণহত্যার ইঙ্গিতও বটে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত অবিলম্বে এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করা এবং গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এই অবরোধ ও সহিংসতার কারণে গাজায় বসবাসকারী শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ভয়, ক্ষুধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম এখন ধ্বংসের মুখে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে গাজায় এই অবস্থাকে ‘চলমান মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।