এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৫, ১২:০৭ এএম
ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য ইংল্যান্ড সফরটি একের পর এক আঘাতের কারণে কঠিন হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ সংবাদ হলো, অলরাউন্ডার নিতিশ কুমার রেড্ডি গুরুতর আঘাত পেয়ে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন না। জিমে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তার হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাত লেগেছে, যা স্ক্যানে নিশ্চিত হয়েছে। এই আঘাতের ফলে ভারতের বোলিং ও ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
নিতিশ কুমার রেড্ডি এই সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে খেলেছিলেন। যদিও তার পারফরম্যান্স তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না, তবুও তাকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তার এই আঘাত দলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। বিশেষ করে যখন ইতিমধ্যেই রিশভ পান্ত, আর্শদীপ সিং ও আকাশ দীপের মতো খেলোয়াড়রা আঘাতের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন।
রিশভ পান্ত লর্ডস টেস্টে আঙুলে আঘাত পাওয়ায় উইকেটকিপিং করতে পারেননি। তিনি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন, আর উইকেটের পিছনে দায়িত্ব পালন করেছেন ধ্রুব জুরেল। এদিকে আর্শদীপ সিং বল হাতে কাটা পেয়েছেন, যা তার ডেবিউ হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। আকাশ দীপের গ্রোইন ও পিঠের ব্যথাও দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত দলকে নতুন মুখের দিকে তাকাতে হচ্ছে। আনশুল কম্বোজকে দলে যোগ করা হয়েছে, এবং তিনি শীঘ্রই ডেবিউ করতে পারেন। এছাড়া জসপ্রীত বুমরাহকে সংরক্ষণ করে খেলানো হতে পারে, কারণ বাকি দুটি টেস্টের মধ্যে তিনি শুধু একটি ম্যাচে খেলবেন।
সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার সুরেশ রায়না এই দলকে এখনও সিরিজ জেতার সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন। তিনি শুভমান গিলের নেতৃত্ব, কেএল রাহুলের ব্যাটিং, রিশভ পান্তের আক্রমণাত্মক খেলা এবং জসপ্রীত বুমরাহের বোলিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। রায়নার মতে, এই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই ভারতকে সিরিজে ফিরিয়ে আনতে পারে।
বর্তমানে সিরিজে ভারত ১-২তে পিছিয়ে আছে। তবে ম্যানচেস্টার ও পরের টেস্টে তারা জয়ী হলে সিরিজ ৩-২তে জিততে পারে। তবে আঘাতের কারণে দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, যা চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এই সিরিজটি অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফি হিসেবে পরিচিত, যা দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইংল্যান্ডের পক্ষে জেমস অ্যান্ডারসন ও ভারতের পক্ষে যুবরাজ সিংহের নেতৃত্বে এই সিরিজে অনেক উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়েছে।
ভারতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আঘাত কাটিয়ে উঠে দলকে শক্তিশালী করা। নতুন খেলোয়াড়দের উপর বেশি চাপ পড়বে, এবং তাদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে সিরিজের চূড়ান্ত ফলাফল।