ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

আইসিসির সিদ্ধান্তে ভারতের আশা ধূলিসাৎ, ইংল্যান্ড পেলো পরবর্তী তিন ডব্লিউটিসি ফাইনালের আয়োজনের দায়িত্ব


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ জুলাই, ২০২৫, ১২:০৭ এএম

আইসিসির সিদ্ধান্তে ভারতের আশা ধূলিসাৎ, ইংল্যান্ড পেলো পরবর্তী তিন ডব্লিউটিসি ফাইনালের আয়োজনের দায়িত্ব

সিঙ্গাপোরে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো ২০২৭, ২০২৯ ও ২০৩১ সালের ডব্লিউটিসি ফাইনালের আয়োজনের দায়িত্ব ইংল্যান্ডকে দেওয়া। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। বিসিসিআই চেয়েছিল ফাইনাল ম্যাচের আয়োজন বিভিন্ন দেশে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে করতে অথবা ইংল্যান্ডের বাইরে অন্য কোনো দেশকে সুযোগ দিতে। কিন্তু আইসিসি ইংল্যান্ডকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এর আগেও ২০২১, ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ডব্লিউটিসি ফাইনাল ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২১ সালের ফাইনালটি লর্ডসে হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ এর কারণে সাউদাম্পটনে দর্শকবিহীন অবস্থায় খেলা হয়। ২০২৩ সালে দ্য ওভালে এবং ২০২৫ সালে আবারও লর্ডসে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ইসিবির সাফল্যজনক আয়োজনের কারণে আইসিসি এবারও তাদের ওপর আস্থা রাখল। ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ভক্তদের আগ্রহ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে।" গোল্ড আরও যোগ করেন, "এই ফাইনালগুলো আয়োজন করা আমাদের জন্য সম্মানের বিষয় এবং আমরা আইসিসির সঙ্গে কাজ করে আগের সাফল্যকে আরও এগিয়ে নেব।" আইসিসির এই সিদ্ধান্তে ভারতের ক্রিকেট প্রশাসন হতাশ হলেও আপাতত তাদের কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে, আইসিসি দুই নতুন দেশকে অ্যাসোসিয়েট সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পূর্ব তিমুর ও জাম্বিয়া এখন আইসিসির নতুন সদস্য। এই সংযোজনের পর আইসিসির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১০-এ। ক্রিকেটের সম্প্রসারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ইউএসএ ক্রিকেটের প্রশাসনিক জটিলতা এখনও রয়ে গেছে। আইসিসি তাদের সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে, যদিও এখনই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেটারদের জন্য আইসিসি বিশেষ সহায়তা ঘোষণা করেছে। আফগানিস্তানের বর্তমান শাসনামলে নারী ক্রিকেট নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেক খেলোয়াড় দেশ ছেড়েছেন। আইসিসি এখন তাদের পুনর্বাসন ও ক্রিকেটে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিসিসিআই, ইসিবি ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সহায়তায় একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ, ঘরোয়া ম্যাচের সুযোগ এবং আইসিসির নারী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। ২০২৫ সালের নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপ ভারতে এবং ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসি আশা করছে, এই উদ্যোগ আফগান নারী ক্রিকেটারদের পুনরায় খেলার সুযোগ করে দেবে।

আইসিসির সভায় আরও আলোচনা হয়েছে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিছু সদস্য দেশ টেস্ট ম্যাচ কমিয়ে ফোকাস ওয়ানডে ও টি২০-তে বাড়ানোর পক্ষে ছিল। তবে আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য রক্ষায় একমত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

ডব্লিউটিসি ফাইনালের আয়োজন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আইসিসি মনে করে ইংল্যান্ডের মাঠ ও পরিকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের। এখানে দর্শকদের উপস্থিতিও বেশি থাকে। তাই ফাইনালের মতো বড় ম্যাচের জন্য ইংল্যান্ডই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। তবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোও ভবিষ্যতে আয়োজনের দাবিদার।

ক্রিকেট বিশ্বে আইসিসির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ভারতের মতো বড় বাজারকে উপেক্ষা করা ঠিক হয়নি। আবার কেউ কেউ বলছেন, ইংল্যান্ডের মাঠগুলোর সুবিধাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ। আইসিসি আগামী দিনগুলোতে আরও স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।