এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম
পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্বে ঝড় তুলে দেওয়া লেফট-আর্ম পেসার শাহিন আফ্রিদি! PSL-এ ক্যাপ্টেন হয়ে দু'বার ট্রফি জয়, PCB-এর সাথে মোটা বেতনের চুক্তি, ব্র্যান্ড এন্ডোরসমেন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা আয়! ২০২৫ সালে তার নেট ওয়ার্থ ৭ মিলিয়ন ডলার! কিন্তু কীভাবে এই তরুণ ক্রিকেটার এত সম্পদের মালিক হলেন? তার বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ির কালেকশন, আর সমাজসেবার গল্প জানতে প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত দেখুন!
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি। ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল জন্ম নেওয়া এই তরুণ তার দ্রুতগতির বোলিং দিয়ে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছেন। PSL-এ লাহোর কালান্দার্সের অধিনায়ক হিসেবে টানা দুইবার ট্রফি জেতার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ২০২১ সালে গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি জিতে ইতিহাসও তৈরি করেন।
২০২৫ সালে শাহিন আফ্রিদির নেট ওয়ার্থ দাঁড়িয়েছে ৭ মিলিয়ন ডলার, যা পাকিস্তানি মুদ্রায় প্রায় ১৯৮ কোটি টাকা! ক্রিকেট মাঠে তার পারফরম্যান্স যেমন অসাধারণ, তেমনি আর্থিক সাফল্যও চোখে পড়ার মতো। PCB, PSL, ব্র্যান্ড ডিল এবং বিনিয়োগ থেকে আসা অর্থই তার এই বিপুল সম্পদের মূল উৎস।
PCB-এর সাথে ক্যাটাগরি ‘এ’ চুক্তি থাকায় শাহিন মাসে প্রায় ৪৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি পান। বছরে যা দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ মিলিয়ন রুপি। পাকিস্তান দলের হয়ে নিয়মিত খেলায় অংশ নেওয়ায় এই আয়ের পরিমাণ আরও বাড়ে বিভিন্ন বোনাস ও পুরস্কারের মাধ্যমে।
PSL-এ লাহোর কালান্দার্সের অধিনায়ক হিসেবে শাহিনের বেতন ২ লাখ ২০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালেও তিনি একই দলের হয়ে খেলছেন। PSL-এ তার নেতৃত্বে দল দু'বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তার মার্কেট ভ্যালু আরও বেড়েছে। লিগের সেরা বোলার হিসেবেও তিনি বেশ কয়েকবার পুরস্কৃত হয়েছেন।
শাহিন আফ্রিদির আয়ের বড় একটি অংশ আসে ব্র্যান্ড এন্ডোরসমেন্ট থেকে। পেপসি, এডিডাস, টাইগার হেডফোনসহ বেশ কয়েকটি বড় ব্র্যান্ডের সাথে তার চুক্তি রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, যার ফলে স্পনসরশিপ ডিলগুলোও লাভজনক।
সম্পদের মধ্যে শাহিনের দুটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। একটি তার জন্মস্থান ল্যান্ডি কোটালে, অন্যটি ইসলামাবাদে। উভয় বাড়িই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিলাসিতা সমৃদ্ধ। ইসলামাবাদের বাড়িটি বিশেষভাবে সুরক্ষিত এবং ক্রিকেটারদের জন্য একটি প্রিয় জায়গা।
গাড়ি প্রেমী শাহিনের কালেকশনে রয়েছে অডি, BMW, ল্যান্ড ক্রুজারের মতো হাই-এন্ড গাড়ি। তার সংগ্রহে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে তিনি প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তবে শুধু বিলাসিতা নয়, গাড়ি নিলাম করে দানও করেন তিনি।
শাহিন আফ্রিদি শুধু ক্রিকেটার নন, একজন সমাজসেবীও। তিনি নিয়মিত দাতব্য কাজে অংশ নেন, বিশেষত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন গরিব শিশুদের জন্য ক্রিকেট একাডেমিও চালু করেছে। সম্পদ দিয়ে সমাজের সেবা করাই তার লক্ষ্য।
২০২৫ সালের হিসাবে, শাহিনের সম্পদ আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। PCB এবং PSL-এ তার অবস্থান শক্তিশালী, ব্র্যান্ড ডিলও বাড়ছে। পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে তাকে দেখছেন অনেকেই।
শাহিনের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি পাকিস্তানের সেরা বোলার এবং ধনী ক্রিকেটারদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। তার এই যাত্রা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। এভাবেই পাকিস্তানের তরুণ ক্রিকেটার শাহিন শাহ আফ্রিদি সম্পদ ও সাফল্যের নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করছেন।