ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় গণহত্যা: আমেরিকা-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ইয়েমেনি নেতার


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম

গাজায় গণহত্যা: আমেরিকা-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ইয়েমেনি নেতার

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মহাসচিব আব্দুল মালিক বদরুদ্দিন আল হুথি গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও মার্কিন সমর্থনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে মুসলিম উম্মাহর জন্য ভয়াবহ হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, গাজায় শিশুদের না খেতে পেয়ে মৃত্যু এবং জাতিসংঘসহ বিশ্ব মুসলিম দেশের নীরবতা আজ বিশ্ব বিবেকের জন্য লজ্জাজনক। এক বিলিয়ন মুসলমানের ব্যর্থতা ফিলিস্তিনি জাতির জন্য চরম হতাশার।

আল হুথি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল মানবিক সহায়তাকে একটি ফাঁদে পরিণত করেছে, যাতে করে ত্রাণ নিতে আসা গাজাবাসীকে হত্যা করা যায়। গাজায় প্রতিদিন শিশু ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ক্ষুধা ও বোমাবর্ষণে।

তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর নির্লিপ্ততা ও দায়িত্ব এড়িয়ে চলা মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সচেতনতার চরম অবক্ষয়। এই ব্যর্থতা দুনিয়া ও আখিরাতে বড় পরিণতির কারণ হতে পারে।

আল হুথি বলেন, কুরআনের নির্দেশনার আলোকে মুসলিম জাতিকে আমেরিকা-ইসরায়েলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে একত্রে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই দমননীতি মুসলিমদের পরিচয় ও আত্মমর্যাদা মুছে ফেলতে চায়।

তিনি আরও বলেন, গাজায় শিশুদের লাশ পড়ে আছে, অথচ মুসলিম সরকারগুলো নীরব। এটি শুধু দুঃখজনক নয়, এটি একটি জাতিগত ব্যর্থতা এবং ঐক্যের অভাব প্রকাশ করে।

আল হুথি জানিয়েছেন, আগ্রাসনের শুরু থেকেই ইয়েমেনি জনগণ ফিলিস্তিনিদের পাশে রয়েছে। যুদ্ধ, অবরোধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা গাজার পক্ষে আওয়াজ তুলেছে এবং সেই অবস্থানে আজও অটল।

তিনি বলেন, ইয়েমেন হাজার হাজার বিমান হামলা, মানবিক সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মধ্যেও গাজার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এটাই তাদের ঈমানের প্রমাণ।

আনসারুল্লাহ নেতার মতে, ইয়েমেনি জনগণের প্রতিরোধ শক্তি কুরআন ও বিশ্বাস থেকে উৎসারিত। তারা জানে—জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।

সবশেষে, আল হুথি বলেন, গাজার প্রতি সমর্থন ও মার্কিন-ইসরায়েলি নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। মুসলিম উম্মাহর এখনই উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।