ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

পায়ের আঙুল ভাঙায় সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন ঋষভ পন্ত, টুইটারে ক্ষোভে ফেটে পড়ল ভারতীয় ভক্তরা


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৫ জুলাই, ২০২৫, ১১:০৭ এএম

পায়ের আঙুল ভাঙায় সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন ঋষভ পন্ত, টুইটারে ক্ষোভে ফেটে পড়ল ভারতীয় ভক্তরা

চতুর্থ টেস্টের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খেলো ভারত। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ঋষভ পন্ত ব্যাট করার সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ক্রিস ওয়োকসের বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে তার পায়ের আঙুলে লাগে।

চোট পাওয়ার পরই মাঠে চিকিৎসা টিম ছুটে আসে এবং পন্তকে স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে তার চোট গুরুতর বলে মনে করা হয়। পরে স্ক্যানে নিশ্চিত হয়, পায়ের আঙুল ভেঙে গেছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, এই ইনজুরির কারণে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে ঋষভ পন্তকে। অর্থাৎ চলমান ইংল্যান্ড সিরিজের বাকি অংশে আর খেলা হচ্ছে না তার।

টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পন্তকে হারানো ভারতীয় দলের জন্য বিশাল ক্ষতি। ব্যাট হাতে যেমন অবদান রাখছিলেন, উইকেটকিপিংয়েও ছিলেন দলের ভরসা। তার এই অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্য নষ্ট করবে।

টিম ম্যানেজমেন্ট আপাতত পন্তকে ব্যথানাশক দিয়ে খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করলেও, তা একপ্রকার অসম্ভবই মনে করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

পন্তের ইনজুরি এমন সময় এলো, যখন ভারতীয় শিবিরে ইনজুরির ছায়া আগেই ঘনিয়ে এসেছে। ম্যাচের আগেই নিটিশ কুমার রেড্ডি হাঁটুর সমস্যায় ছিটকে যান। একইসঙ্গে ফাস্ট বোলার আর্শদীপ সিং ও আকাশ দীপও ফিটনেস ইস্যুতে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ঋষভ পন্তের ছিটকে যাওয়া ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে প্রবল হতাশা তৈরি করেছে। অনেকেই টুইটারে তাদের হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ তো একে ভারতীয় দলের সিরিজ হারার সংকেত বলেও মন্তব্য করেছেন।

একজন ভক্ত লেখেন, “সিরিজে ৬০০+ রানের জন্য প্রস্তুত ছিল, দুর্দান্ত ফর্মে ছিল। কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল।” আরেকজন লেখেন, “এই ছেলে আগেও খারাপ সময় থেকে ফিরেছে, এবারও ফিরবে।”

তবে সবাই যে পন্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা নয়। কিছু টুইটার ব্যবহারকারী পন্তের শট নির্বাচন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। কেউ বলেছেন, “দল যখন চাপে, তখন এমন বোকামি করে চোট পাওয়া মানে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।”

আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “পান্ত হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান কিন্তু সবচেয়ে বোকা ক্রিকেটার।” এমন কটাক্ষও এসেছে, “পান্ত তো আগের দুই ম্যাচে অর্ধেক ‘প্যান্ট’ পরেই খেলছিল, এখন দেখি পুরো ‘প্যান্ট’ পড়ে নেমে কেউ কাজে আসে কিনা।”

তবে অধিকাংশ ভক্তই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একজন লিখেছেন, “পান্তকে আমরা মিস করব, ব্যাটসম্যান আর কিপার—দুই রূপেই।” আবার কেউ বলেছেন, “এই ছেলেটা একটা বিরতি প্রাপ্য, তবে তা যেন এমন যন্ত্রণাদায়ক না হয়।”

ইনজুরি ক্রিকেটের অঙ্গ এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্যই এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ঋষভ পন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা যেন একটু বেশি ঘন ঘন ঘটছে। ফিরেও আবার চোটে পড়ছেন, যা তার ক্যারিয়ারের গতি থামিয়ে দিচ্ছে বারবার।

এই সিরিজের পর পন্তকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে সময় লাগবে। ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট এখন ব্যাকআপ কিপার হিসেবে জুরেলকে বিবেচনা করছে, যদিও ভক্তদের অনেকেই মনে করেন, জুরেল এখনও পন্তের মানের কাছাকাছি পৌঁছায়নি।

সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে ভারত কীভাবে এই শূন্যতা পূরণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে ঋষভ পন্তের অনুপস্থিতি যে দলের জন্য বড় ধাক্কা, সেটা বলাই বাহুল্য।