এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৫, ১২:০৭ পিএম
ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের ৬৬৯ রানের পাহাড়সম ইনিংসের পর ভারতের সামনে ৩১১ রানের বড় লিড—পুরনো দুঃস্বপ্ন যেন আবার ফিরে এসেছে। ইনিংস ব্যবধানে হারের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডই ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু।
ইতিহাস বলছে, ইনিংস ব্যবধানে ভারতের যত হার, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এসেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গত সাত দশক ধরে এই ধারাবাহিকতা ইংল্যান্ডের নিয়মিত আধিপত্যের প্রমাণ দেয়।
ভারত ১৯৮৪ সালে লর্ডসে ইনিংস ও ২৮৫ রানে এবং ২০১৪ সালে দ্য ওভালে ইনিংস ও ২৪৪ রানে হেরেছিল। এই ধারাবাহিক লজ্জাজনক হার আজও থেমে নেই। ম্যানচেস্টারে চলমান টেস্টে ২৪০ রানের বেশি পিছিয়ে থেকে সেই পুরনো চিত্রই আবার দেখা যাচ্ছে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের সংগ্রাম যেন পুরনো নিয়ম। ১৫টি ইনিংস হারের মধ্যে ১৩টিই হয়েছে ইংল্যান্ডে। লর্ডস, দ্য ওভাল, বার্মিংহামের মতো ভেন্যুতে বারবার ধরা খেয়েছে ভারতীয় দল।
এমনকি ২০২১ সালেও ভারত লিডসে ইংল্যান্ডের কাছে ইনিংস ও ৭৬ রানে হেরে গিয়েছিল। মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টার পরও ইংলিশ কন্ডিশন ভারতের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
ইংল্যান্ডের এমন আধিপত্যের পিছনে রয়েছে কিছু শক্তিশালী কারণ। ঘরের মাঠের পরিবেশে ইংল্যান্ড দল যেন সব দিক থেকেই প্রস্তুত থাকে। পিচ, আবহাওয়া ও ডিউক বল মিলিয়ে তারা ভারতের জন্য এক ভিন্নতর পরিস্থিতি তৈরি করে।
তার সাথে আছে অতীত সাফল্যের মানসিক সুবিধা। ভারতীয় ব্যাটারদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা খুব ভালো করেই বোঝে ইংলিশ দল। তাদের পরিকল্পিত খেলা ভারতের বিপক্ষে কার্যকরভাবে সফল হয় বারবার।
এই চলমান টেস্টে যদি ভারত ইনিংস ব্যবধানে হারেই যায়, তবে সেটি হবে ১৬তম এমন হার, যা ইংল্যান্ডকে ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত হেরেছে ১১ বার, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৯ বার।
এই ম্যাচে যদি ভারত হারে, তাহলে সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাবে ইংল্যান্ড। পুরো সিরিজেই তারা বারবার ভারতকে ব্যাটিং থেকে বাইরে ঠেলে দিচ্ছে—এটাই ইংল্যান্ডের ঘরোয়া মাঠে খেলার চিরাচরিত রূপ।
৬৬৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ৩১১ রানের লিড নেওয়া মানেই ভারতের জন্য এক বড় পরীক্ষা। বহু বছর ধরে বিদেশের মাটিতে উন্নতির কথা বলা হলেও, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কথার সত্যতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ম্যানচেস্টারে যদি পুনরায় ইনিংস হারের ঘটনা ঘটে, তাহলে তা শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, মানসিকভাবেও ভারতের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে।
ইংল্যান্ড যেন এখনও জানে, কীভাবে ভারতের দুর্বল জায়গায় আঘাত করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে, সেই পুরনো ধারা থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ভারতের সামনে এখন একটাই পথ—মাঠে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব হবে, সেই প্রশ্নটাই বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে।