ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

রোহিত শর্মা: ক্রিকেটের ‘হিটম্যান’ এর অসাধারণ যাত্রা


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৭ জুলাই, ২০২৫, ০৯:০৭ পিএম

রোহিত শর্মা: ক্রিকেটের ‘হিটম্যান’ এর অসাধারণ যাত্রা

রোহিত শর্মা—ক্রিকেটের ‘হিটম্যান’! ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক থেকে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়—তার গল্প প্রতিভা, সংগ্রাম আর নেতৃত্বের। কীভাবে তিনি ওডিআই-তে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি এবং পাঁচটি আইপিএল শিরোপা জিতলেন? কীভাবে তিনি বিশ্বের সেরা ব্যাটার হলেন? এই গল্পে রয়েছে আবেগ, উত্থান আর অপ্রতিরোধ্য সাফল্য। 

রোহিত ভারতীয় ক্রিকেটের ‘হিটম্যান’, যিনি তার মার্জিত ও বিস্ফোরক ব্যাটিং দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখেছেন। ২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেকের মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু। এরপর থেকে তিনি টি-টোয়েন্টি, ওডিআই এবং টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে একজন অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আজ আমরা তার এই অসাধারণ ক্যারিয়ারের গল্প তুলে ধরব।

রোহিতের ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয় মুম্বাইয়ের বোরিভালিতে। ১৯৯৯ সালে তিনি একটি ক্রিকেট ক্যাম্পে যোগ দেন, যেখানে তার কোচ দিনেশ লাড তাকে অফ-স্পিনার থেকে ব্যাটার হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন। এই সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হ্যারিস ও গিলস শিল্ড স্কুল টুর্নামেন্টে তিনি রানের পাহাড় গড়েন, যা তাকে মুম্বাইয়ের ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

২০০৬ সালে রোহিত দেওধর ট্রফিতে ওয়েস্ট জোনের হয়ে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক করেন। নর্থ জোনের বিপক্ষে অপরাজিত ১৪২ রানের ইনিংস তাকে স্পটলাইটে আনে। একই বছর তিনি ভারত এ-এর হয়ে নিউজিল্যান্ড এ-এর বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক করেন এবং মুম্বাইয়ের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেন। তার এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজায় এনে দেয়।

২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেকে রোহিত ব্যাটিং বা বোলিংয়ের সুযোগ না পেলেও, একটি ক্যাচ ধরে নজর কাড়েন। একই বছর প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংস খেলেন। ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার ৩০ রান ভারতকে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে রোহিত সাচিন তেন্ডুলকারের সাথে ম্যাচ জয়ী পার্টনারশিপ গড়েন। ফাইনালে তার পারফরম্যান্স ভারতকে সিরিজ জয় এনে দেয়। তবে, ২০১১ সালের বিশ্বকাপে তার বাদ পড়া তার ক্যারিয়ারের একটি বড় ধাক্কা ছিল। এই ব্যর্থতা তাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করে, এবং তিনি পরবর্তীতে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেন।

২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রোহিতকে ওপেনার হিসেবে প্রমোট করা হয়। শিখর ধাওয়ানের সাথে তার জুটি ভারতকে ইংল্যান্ডের মাটিতে শিরোপা জয়ে নিয়ে যায়। তার এই সাফল্য তাকে ওডিআই দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে তোলে। এই টুর্নামেন্টে তার আগ্রাসী ব্যাটিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

রোহিত ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে ১৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। সাচিন তেন্ডুলকারের বিদায়ী সিরিজে তিনি দুটি সেঞ্চুরি করে ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কার জিতেন। তবে, বিদেশের মাটিতে তার ফর্ম অস্থির ছিল। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে তিনি তিনটি সেঞ্চুরি করেন, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২০২১ সালে ইংল্যান্ডের ওভালে রোহিত তার প্রথম বিদেশি টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। ১২৭ রানের ইনিংসটি ভারতকে ১৫৭ রানের ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়। এই ইনিংস তার টেস্ট ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২২ সালে তিনি ভারতের সর্ব ফরম্যাটের অধিনায়ক নিযুক্ত হন, যা তার নেতৃত্বের ক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।

২০১৯ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে রোহিত ৬৪৮ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তিনি পাঁচটি সেঞ্চুরি করেন, যা একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড। পাকিস্তানের বিপক্ষে তার ১৪০ রানের ইনিংস ছিল অসাধারণ। তবে, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ভারতের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। রোহিতের এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বের শীর্ষ ব্যাটারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে রোহিত অধিনায়ক হিসেবে ভারতকে নেতৃত্ব দেন। ১১ ইনিংসে প্রায় ৬০০ রান করে তিনি দলকে ফাইনালে নিয়ে যান। তার আগ্রাসী ব্যাটিং লীগ পর্বে ভারতকে অপরাজিত রাখে। তবে, ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় ভারত। রোহিতের নেতৃত্ব এবং ব্যাটিং দুটিই এই টুর্নামেন্টে প্রশংসিত হয়।

রোহিতের ওডিআই ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড। তিনি ওডিআইতে সর্বোচ্চ ২৬৪ রানের ইনিংস খেলেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড তার নামে, যা বিশ্বে অদ্বিতীয়। তিনি ১০,০০০ ওডিআই রানের দ্রুততম দ্বিতীয় ব্যাটার। ২০১৯ সালে তিনি আইসিসি পুরুষ ওডিআই ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেন।

রোহিতের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারও সমানভাবে চিত্তাকর্ষক। তিনি ১৫০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন, যা পুরুষদের মধ্যে সর্বাধিক। তিনি সর্বোচ্চ ১৮২টি ছক্কার রেকর্ড ধারণ করেন। চারটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করে তিনি সূর্যকুমার যাদব ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তার স্ট্রাইক রেট ১৩৯.০৯, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ব্যাটারদের একজন করে।

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জয় করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফাইনালে তিনি ৭ রানের জয় নিশ্চিত করেন। টুর্নামেন্টে তিনটি অর্ধশতক করেন এবং ২০০ টি-টোয়েন্টি ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরপর তিনি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর ঘোষণা করেন, তবে ওডিআই এবং টেস্টে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

২০২৫ সালে রোহিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জয় করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি ১১,০০০ ওডিআই রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন, যা তিনি ২৬১ ইনিংসে অর্জন করেন। এই টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভারতের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রোহিতের নেতৃত্ব এবং ব্যাটিং তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে একজন কিংবদন্তি করে।

আইপিএল-এ রোহিতের ক্যারিয়ার অতুলনীয়। ২০০৮ সালে ডেকান চার্জার্সের হয়ে অভিষেক করেন এবং ২০০৯ সালে শিরোপা জয় করেন। ২০১১ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দেন এবং ২০১৩ সালে অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন। তার নেতৃত্বে মুম্বাই ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে পাঁচটি শিরোপা জয় করে। তিনি আইপিএল-এর সফলতম অধিনায়কদের একজন।

রোহিত আইপিএল-এ ২৭২ ম্যাচে ৭,০৪৬ রান করেছেন, গড় ২৯.৭৩। তার সর্বোচ্চ স্কোর ১০৯* এবং তিনি ৬৪০ চার ও ৩০২ ছক্কা মেরেছেন। ২০২৫ সালে তিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলেন, যদিও ২০২৪ সালে হার্দিক পান্ডিয়া অধিনায়ক হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন। রোহিতের আইপিএল ক্যারিয়ার তাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের একজন মহাতারকা করে।

রোহিতের টেস্ট ক্যারিয়ারে তিনি ৬৭ ম্যাচে ৪,৩০১ রান করেছেন, গড় ৪৫.৪৫। তার সর্বোচ্চ স্কোর ২১২। তবে, বিদেশের মাটিতে তার অসামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্স সমালোচিত হয়। ২০২৫ সালে তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি হারের পর।

২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে রোহিত ভারতকে নেতৃত্ব দেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারেন। তার ব্যাটিং স্লাম্প এবং দলের খারাপ পারফরম্যান্স সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে, ওডিআই ফরম্যাটে তিনি পুনরুত্থান ঘটান। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরোয়া সিরিজে তিনি একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন, যা তার ফর্মের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

রোহিতের পুরস্কারের তালিকা চিত্তাকর্ষক। ২০১৫ সালে তিনি অর্জুন পুরস্কার এবং ২০২০ সালে মেজর ধ্যান চাঁদ খেল রত্ন পুরস্কার পান। ২০১৯ সালে তিনি আইসিসি ওডিআই ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে আইসিসি ওডিআই টিম অফ দ্য ইয়ারে নাম লেখান।

ইনজুরিও রোহিতের ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের আগে তিনি ইনজুরিতে পড়েন, যা তার অভিষেক বিলম্বিত করে। তবে, তার ফিটনেস এবং দৃঢ়তা তাকে ৫০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে সাহায্য করেছে। তার দীর্ঘায়ু এবং ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি করে তুলেছে।

রোহিতের নেতৃত্বের গুণাবলী তাকে আলাদা করে। তিনি শান্ত, কৌশলগত এবং দলের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার নেতৃত্বে ভারত ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে এশিয়া কাপ, ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফি এবং ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করে। তিনি আইসিসি টুর্নামেন্টের সব ফাইনালে নেতৃত্ব দেওয়া একমাত্র অধিনায়ক।

রোহিতের ব্যাটিং শৈলী তাকে ‘হিটম্যান’ উপাধি এনে দিয়েছে। তার পুল শট এবং লেট প্লে করার ক্ষমতা বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। রবি শাস্ত্রী তাকে ‘সুইস ওয়াচ’ বলে অভিহিত করেন তার নির্ভুল টাইমিংয়ের জন্য। দিলীপ ভেঙ্গসরকার তার দেরিতে খেলার ক্ষমতার প্রশংসা করেন, যা তাকে বলের দৈর্ঘ্য দ্রুত বিচার করতে সাহায্য করে।

রোহিতের ব্যক্তিগত জীবনও তার ক্রিকেট যাত্রার মতোই অনুপ্রেরণাদায়ক। নাগপুরে জন্মগ্রহণ করা রোহিত আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে বড় হন। তার পরিবারের সমর্থন এবং কোচ দিনেশ লাডের মেন্টরশিপ তাকে ক্রিকেটে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। ২০১৫ সালে তিনি রিতিকা সাজদেহকে বিয়ে করেন, যিনি তার ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে রয়েছেন।

২০২৫ সালে আইপিএল-এ রোহিত মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ৭,০০০ রান এবং ৩০০ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেন। তিনি আইপিএল-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে তৃতীয়। তার আগ্রাসী ব্যাটিং এবং নেতৃত্ব মুম্বাইকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি করে তুলেছে। ২০২৫ সালে তিনি ১৬.৩০ কোটি টাকায় মুম্বাইয়ের দ্বারা রিটেন হন।

রোহিতের ক্যারিয়ারে চ্যালেঞ্জের অভাব ছিল না। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি হার তার নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন তুলেছিল। তবে, তিনি ওডিআই ফরম্যাটে তার ফর্ম ফিরে পান। তার দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে এই চ্যালেঞ্জগুলো জয় করতে সাহায্য করেছে।

রোহিতের রেকর্ডগুলো তার প্রতিভার প্রমাণ। তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতিটি সংস্করণে খেলা একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড ধারণ করেন। তার ২৬৪ রানের ওডিআই ইনিংস এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে পাঁচটি সেঞ্চুরি তাকে ক্রিকেট ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। তার এই অর্জনগুলো তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা।

রোহিতের নেতৃত্বে ভারত ২০২২ সালে ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি এবং ওডিআই সিরিজ জয় করে। তিনি ইংল্যান্ডে ওডিআই সিরিজ জয়ী প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তার কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা এবং শান্ত মনোভাব তাকে দলের সদস্যদের কাছে প্রিয় করে তুলেছে। তিনি মাঠে এবং মাঠের বাইরে একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব।

রোহিতের ক্রিকেট যাত্রা তরুণদের জন্য একটি শিক্ষা। আর্থিক প্রতিকূলতা, ইনজুরি এবং ফর্মের অভাব সত্ত্বেও তিনি নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন। তার পরিশ্রম, প্রতিভা এবং নেতৃত্ব তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের একজন আইকন করে তুলেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ়তার মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব।