ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

৪৩ বছর বয়সে কামরান আকমলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, বিশ্ব লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের জয়


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৭ জুলাই, ২০২৫, ০৯:০৭ পিএম

৪৩ বছর বয়সে কামরান আকমলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, বিশ্ব লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের জয়

লিডসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস (WCL) ম্যাচে ৪৩ বছর বয়সী কামরান আকমল দেখালেন, অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস মিললে বয়স কেবল একটি সংখ্যা। অবসর নেওয়ার দুই বছর পরও তিনি খেললেন দুর্দান্ত এক শতরান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ৬২ বলে ১১৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন আকমল। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ভর করে পাকিস্তান তোলে ২০০/৪ রান, এবং শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে জয় পায়।

পিএসএলের দিনের স্মৃতি ফেরালেন আকমল। একসময় যেখানে তিনি ৪৮ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই এবারও শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন। শরজিল খানের (২১ রান, ১৪ বল) সঙ্গী হয়ে ওপেনিংয়ে ঝড় তোলেন তিনি।

সতীর্থদের মধ্যে ছিলেন সোহেব মাকসুদ (১৭ রান, ১৩ বল) এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ (২৩ রান, ১৮ বল)। আকমলের ব্যাটে ছিল ১৩টি চার ও ৫টি ছয়। প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর ছিল তার পূর্ণ দাপট।

শুরুতে ৩০ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আকমল। এরপর মাত্র ২৬ বলে শতরান স্পর্শ করেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন, এখনো আন্তর্জাতিক মানের পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম।

এই ম্যাচে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান আকমল। সেই সঙ্গে তিনি WCL ২০২৫ আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।

তাঁর ব্যাটিংয়ের কারণে পাকিস্তানের রান ছিল চাপে ফেলার মতো। শেষ দিকে আসিফ আলি ও শোয়েব মালিক রান তোলায় অবদান রাখেন, যার ফলে দলীয় স্কোর দুই শতকের গণ্ডি ছাড়ায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নদের বোলিং ছিল বেশ হতাশাজনক। তারা আকমলের আগ্রাসন থামাতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চাপে পড়ে যায়।

রুম্মান রইস শুরুতেই বিধ্বংসী স্পেল উপহার দেন। ৩ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তিনি ক্রিস গেইল (৫), লেন্ডল সিমন্স (০) ও ডোয়াইন স্মিথ (৩)-কে ফিরিয়ে দিয়ে উইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে ধস নামান।

মাত্র ২৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ক্যারিবীয়রা। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন চ্যাডউইক ওয়ালটন ও উইলিয়াম পারকিন্স। ওয়ালটন ৩০ বলে ৪২ রান করেন, মারেন ৫টি ছয়। পারকিন্স করেন ২৬ বলে ৩০ রান।

তবে মাঝপথে আবার উইকেট পড়তে থাকে। আমের ইয়ামিন ২/২৩ ও সোহেল তানভীর ২/২৪ দিয়ে ক্যারিবীয়দের মিডল অর্ডার ভেঙে দেন। উইকেট হারাতে হারাতে উইন্ডিজ দাঁড়াতে পারে না ম্যাচে।

শেষদিকে ডোয়াইন ব্রাভো অপরাজিত ৩০ রান করলেও ততক্ষণে ম্যাচ পাকিস্তানের দিকেই চলে যায়। নির্ধারিত ওভার শেষে উইন্ডিজ করে ৭ উইকেটে ১৫১ রান।

এই জয়ে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নরা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে উঠেছে। কামরান আকমলের ফর্মে থাকা দলের জন্য বাড়তি পাওয়া। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ফর্মে থাকা লিজেন্ডস লিগে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই পিছিয়ে ছিল। যদিও কয়েকজন ব্যাটার চেষ্টার কমতি রাখেননি, তবে শুরুতেই বড় ধস নামার কারণে আর পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি।

লিডসের মাঠে এই ম্যাচ ছিল দর্শকদের জন্য আনন্দদায়ক। কামরান আকমলের ইনিংস তাদের নস্টালজিয়ায় ভরিয়ে দিয়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন।

এই ম্যাচ প্রমাণ করে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা উপযুক্ত সুযোগ পেলে এখনও মাঠে ম্যাচ ঘোরাতে পারেন। কামরান আকমলের ইনিংস তেমনই একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বিশ্ব লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়নশিপে।